আমেরিকাকে ‘সমুদ্রের অতল তলদেশে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের ভয়ঙ্কর ছক ফাঁস

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর বার্তা দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে বিদেশি শক্তির বিশেষ করে আমেরিকার উপস্থিতির দিন ফুরিয়ে আসছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এই জলপথে শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ শক্ত হাতে দমন করা হবে। আমেরিকার উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে তাদের একমাত্র জায়গা হতে পারে সমুদ্রের গভীর তলদেশে।
আঞ্চলিক আধিপত্য ও নতুন ব্যবস্থাপনা
ন্যাশনাল পার্সিয়ান গাল্ফ ডে উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় খামেনেই উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু হতে যাচ্ছে। ইরানের নতুন এই ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদেশি শক্তির অনুপস্থিতিতেই উপসাগরীয় দেশগুলো শান্তি, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে। তেহরান তাদের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে যেকোনো মূল্যে তা রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। হাজার মাইল দূর থেকে আসা বহিরাগতদের এই অঞ্চলে কোনো স্থান নেই বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান এই চরম উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন সামরিক অবরোধ জারী থাকায় তরল জ্বালানি ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং সামরিক ঘেরাও বজায় থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু শক্তিকে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
পারস্য উপসাগর থেকে আমেরিকাকে বিতাড়িত করে নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরির ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই আমেরিকাকে সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
