ডায়মন্ড হারবারে কি ফের ভোট? জ্ঞানেশের ফোন যেতেই ময়দানে সুব্রত গুপ্ত! তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শেষ হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চারটি বিধানসভা আসনের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি উঠেছে। মূলত বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ইভিএম জালিয়াতি ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলে কমিশনে আবেদন জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ইতিমধ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার
নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়া আবেদন অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচনের সিংহভাগ দাবিই ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে। ফলতায় ৩২টি এবং ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি বুথে ফের ভোটের আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া মগরাহাট পূর্বের ১৩টি এবং বজবজের ৩টি বুথেও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ফলতার ১৭০ ও ১৮৯ নম্বর বুথে ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো এবং পুলিশি হুমকির যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও কমিশনের ভূমিকা
প্রথম দফার নির্বাচনে একটি বুথেও পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন না পড়লেও, দ্বিতীয় দফায় একযোগে এতগুলো বুথে ফের ভোটের দাবি কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং বুথ দখলের অভিযোগগুলো কতটা সত্য, তা যাচাই করতে বর্তমানে স্ক্রুটিনি বা বিশেষ পরীক্ষা চলছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর পেশ করা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই জানা যাবে ওই ৭৭টি বুথে ভোটাররা পুনরায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন কি না।
ফলাফলে প্রভাবের সম্ভাবনা
আগামী ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে যদি এই ৭৭টি বুথে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তা সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকার অন্তর্গত কেন্দ্রগুলোতে এই প্রশাসনিক তৎপরতা বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এক ঝলকে
আগামী ৪ মে ভোটগণনার আগেই পুনর্নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে ফলতা (৩২টি) ও ডায়মন্ড হারবার (২৯টি) কেন্দ্র থেকে।
ইভিএমে কারচুপি ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর মাধ্যমে স্ক্রুটিনি শুরু হয়েছে।
