বন্ধু না কি বিষধর সাপ? ওসামা থেকে ইরান— বারবার যেভাবে আমেরিকার পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক কিছু তথ্যপ্রমাণ ইসলামাবাদের দ্বিমুখী নীতিকে পুনরায় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী সেজে একদিকে শান্তির বার্তা দিলেও, অন্যদিকে ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে আশ্রয় দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সিবিএস নিউজ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন হামলা থেকে বাঁচাতে ইরানের গোয়েন্দা বিমান আরসি-১৩০ সহ বেশ কিছু সামরিক যানকে গোপনে সুরক্ষা দিয়েছে পাকিস্তান। এই ঘটনায় মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সন্ত্রাসবাদ ও লাদেন ইস্যু: বন্ধুত্বের আড়ালে ছদ্মবেশ
পাকিস্তানের এই বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর যখন গোটা বিশ্ব ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজছিল, তখন পাকিস্তান বারবার তার অস্তিত্ব অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু ২০১১ সালে অ্যাবটাবাদে পাক সেনার নাকের ডগায় মার্কিন অভিযানে লাদেনের মৃত্যু প্রমাণ করে দেয় যে, পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ জঙ্গিকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দিয়ে আসছিল। আমেরিকার কাছ থেকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা নিয়েও সেই অর্থ ও সম্পদ সন্ত্রাসবাদের কাজেই ব্যয় করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
আফগানিস্তানে ডবল গেম ও পারমাণবিক প্রযুক্তির চোরাচালান
আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। একদিকে তারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার সহযোগী দাবি করত, অন্যদিকে কোয়েটা শুরার মাধ্যমে তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্ককে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করত। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার পেছনেও পাকিস্তানের কৌশলগত সমর্থন ছিল।
এছাড়াও, পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী এ. কিউ. খানের মাধ্যমে ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে পারমাণবিক প্রযুক্তির পাচার মার্কিন নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মূলত বারবার সাহায্যের হাত বাড়িয়েও পাকিস্তান নিজের আঞ্চলিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ওয়াশিংটনকে ব্যবহার করেছে, যা এখন আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ফেলেছে।
