বয়সসীমা বাড়লেও স্বস্তি নেই, নিয়োগ ও পুনর্বহালের দাবিতে সরব যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা

বয়সসীমা বাড়লেও স্বস্তি নেই, নিয়োগ ও পুনর্বহালের দাবিতে সরব যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা

রাজ্যের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক মনে হলেও, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মধ্যে এখনও আক্ষেপ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের গ্রুপ সি-ডি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা যোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পরেও কর্মহীন হয়ে আছেন, তাঁদের কাছে কেবল বয়সসীমা বৃদ্ধি কোনো সমাধান হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।

বাস্তবতা ও প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ

সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ এবং সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য তা ৫০ করা হচ্ছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের বড় অংশের প্রশ্ন, জীবনের সোনালি সময়গুলো নিয়োগের অপেক্ষায় পার করে দেওয়ার পর এই বয়সে এসে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়া কতটা সম্ভব? গৃহবধূ থেকে শুরু করে সংসার সামলানো পুরুষদের পক্ষে পুনরায় প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। মেদিনীপুরের শর্বরী মণ্ডলের মতো অনেক চাকরিপ্রার্থীই মনে করছেন, বয়স বাড়লেও চর্চার অভাব এবং পারিবারিক দায়িত্বের চাপে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়া এখন বেশ অনিশ্চিত।

পুনর্বহালের দাবিতে অনড় যোগ্য প্রার্থীরা

চাকরিহারাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশা কাজ করছে আদালত কর্তৃক ‘যোগ্য’ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে। গ্রুপ সি-ডি ঐক্যমঞ্চের দাবি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের রায়ে যারা যোগ্য শিক্ষাকর্মী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন, পূর্বতন সরকার তাঁদের চাকরিতে বহাল করেনি। হুগলির অচিন্ত্য মল্লিকের মতো যোগ্য প্রার্থীরা বর্তমানে মুদি দোকানে কাজ করে দিন গুজরান করছেন। তাঁদের দাবি, নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং যে পদে তাঁরা সাত বছর কাজ করেছেন, সেই পুরনো চাকরিতেই যেন নতুন সরকার তাঁদের দ্রুত পুনর্বহাল করে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রত্যাশা

২০১৫ সালের পর রাজ্যে বড় কোনো নিয়োগ না হওয়ায় হাজার হাজার কর্মপ্রার্থীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। বয়সসীমা বৃদ্ধির ফলে যারা ওভার-এজ হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা হয়তো আবারও আবেদনের সুযোগ পাবেন। তবে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবি হলো স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বকেয়া নিয়োগগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা। নতুন সরকার কেবল বয়সের ছাড় দিয়ে ক্ষোভ প্রশমন করতে পারবে, নাকি যোগ্যদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *