বল হাতে ময়দান কাঁপানো অশোক দিন্দা এবার শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায়, সোমবারই কি শপথ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার ক্রিকেটকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি, এবার রাজ্যের প্রশাসনিক পিচে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন পেসার অশোক দিন্দা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে চলেছে আগামী সোমবার। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, এই দফায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। শুভেন্দু অধিকারীসহ প্রথম সারির পাঁচ মন্ত্রী ইতিমধ্যেই শপথ নিয়েছেন, এবার বাকি দপ্তরের দায়িত্ব বন্টন এবং নতুন মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ পেতে চলেছে।
বাইশ গজের তারকা থেকে রাজনীতির ময়দানে
ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরেই সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন অশোক দিন্দা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ে প্রথমবার বিধায়ক হন তিনি। দীর্ঘ সময় বিরোধী আসনে থাকার পর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নিজের জয়ের ধারা বজায় রাখেন এই প্রাক্তন পেসার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের প্রতি আনুগত্য ও জনভিত্তির কারণেই এবার তাঁকে পুরস্কৃত করতে চলেছে গেরুয়া শিবির।
কোন দায়িত্বে দিন্দা এবং শুভেন্দুর মাস্টারপ্ল্যান
দিন্দার মন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত হলেও তিনি কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর নাম ক্রীড়া দপ্তরের জন্য ভাবা হলেও, সেই মন্ত্রক ইতিমধ্যেই নীশীথ প্রামাণিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে সোমবারই স্পষ্ট হবে দিন্দার আসল প্রশাসনিক ভূমিকা।
অন্যদিকে, নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে বড় চমক দিচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালকে অর্থমন্ত্রী করার জল্পনা থাকলেও, সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে অর্থ দপ্তর নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরও তাঁর হাতেই থাকতে পারে।
প্রভাব ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
বিপুল ঋণের বোঝা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা হাতছাড়া হওয়ার কারণে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। এই পরিস্থিতিতে অর্থ দপ্তর নিজের হাতে রেখে রাজ্যের উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। অশোক দিন্দার মতো তরুণ ও জনপ্রিয় মুখকে মন্ত্রিসভায় এনে একদিকে যেমন প্রশাসনে নতুন গতি আনার চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরে দলের সংগঠনকে আরও মজবুত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। সোমবারের এই সম্প্রসারণের পর নতুন সরকার কীভাবে রাজ্যের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উন্নয়নের চাকা ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার।
