বাংলাদেশের জাহাজ থেকে তেল চুরি, নামখানায় তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘিরে ধুন্ধুমার! – এবেলা

বাংলাদেশের জাহাজ থেকে তেল চুরি, নামখানায় তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘিরে ধুন্ধুমার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি ডিজেল ও সুপারি উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত নেতার নাম নজরুল ইসলাম। শনিবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে পুলিশি অভিযানের পর থেকেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের গ্রেফতারির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।

নেতার বাড়িতে বেআইনি মজুত ও পুলিশের খাঁচায় অঞ্চল সভাপতি

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে পুলিশ তৃণমূল নেতা নজরুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে প্রায় ৪০ ব্যারেল ডিজেল এবং বেশ কয়েক বস্তা সুপারি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ তেল ও সামগ্রী কেন সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ থেকে এই ডিজেল চুরি করে এনে ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

অভিযান চলাকালীন পুলিশ নজরুলের খোঁজ না পেলেও তাঁর দাদা আনারুল মোল্লাকে আটক করে। তবে সবচেয়ে নাটকীয় মোড় নেয় যখন নজরুলের বাড়ির শৌচালয় থেকে ফ্রেজারগঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি প্রসেনজিৎ জানাকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বেআইনি জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যেই প্রসেনজিৎ সেখানে এসেছিলেন, কিন্তু পুলিশ চলে আসায় ভয়ে শৌচালয়ে লুকিয়ে পড়েন। এই ঘটনায় ফ্রেজারগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত নজরুলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

রাজ্যজুড়ে দুর্নীতির জাল এবং সম্ভাব্য প্রভাব

নামখানার এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের একাধিক নেতা-কর্মীর বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিতে উঠে আসছে একের পর এক দুর্নীতির খতিয়ান। শনিবারই নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে সাধারণ মানুষের ত্রাণসামগ্রী ক্লাবে মজুত করার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুধাংশু নস্করের বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, কম্বল ও বাসনপত্র। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

তৃণমূল নেতাদের বাড়ি থেকে একের পর এক চুরি করা জ্বালানি তেল ও সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের এই ঘটনাগুলি জনমানসে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে যেমন একদিকে চোরাচালান ও দুর্নীতির বড় চক্রগুলির ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবেও শাসকদল চরম অস্বস্তিতে পড়ছে। একের পর এক নেতার গ্রেফতারি এবং স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আগামী দিনে গ্রামীণ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *