বাংলায় আসন পুনর্বিন্যাস ও নতুন বিধানসভা ভবনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! – এবেলা

বাংলায় আসন পুনর্বিন্যাস ও নতুন বিধানসভা ভবনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে বিধানসভা কেন্দ্রের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সেই কারণে একটি নতুন ও আধুনিক বিধানসভা ভবন নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। শুক্রবার নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর বিধানসভার ভেতরেই এমন এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরগামী ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হাউসকে স্পষ্ট জানান যে, আগামী বছরগুলিতে রাজ্যের আইনসভার পরিকাঠামোয় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা অত্যন্ত আবশ্যক হয়ে পড়তে পারে।

ঐতিহাসিক এই অধিবেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। আজ এখানে উপস্থিত রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই ঐতিহাসিক সেশনের সাক্ষী থাকলেন। যদি রাজ্যে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভার আসনের সংখ্যা অনেক বাড়বে। আর সেই বাড়তি বিধায়কদের বসার আসনের সংস্থান করতে আমাদের একটি নতুন ও সুপরিসর বিধানসভা ভবন নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে।”

জাতীয় প্রেক্ষাপট ও ডিলিমিটেশনের নেপথ্য কারণ

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র সরকারের দেশব্যাপী আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টার সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ এবং সামগ্রিকভাবে লোকসভা আসন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আনা একটি সংবিধান সংশোধনী বিল গত ১৭ এপ্রিল লোকসভায় পরাজিত হয়েছে। এই জাতীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই রাজ্যে আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করল।

রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গেও কি তবে প্রতিবেশী রাজ্য আসামের মতো ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আসামে আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল, যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানকার বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলেছিল যে, ওই পুনর্বিন্যাসের ফলে নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যালঘু ভোটারের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া শুরু হলে তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ, নির্বাচনী মানচিত্র এবং দলীয় কৌশলে এক বিশাল ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *