বাংলায় ভোটের সুনামি! বিকেল ৫টাতেই প্রায় ৯০% পার শতাংশ ভোটদান, ভেঙে গেল আগের সব রেকর্ড?

বাংলায় ভোটের সুনামি! বিকেল ৫টাতেই প্রায় ৯০% পার শতাংশ ভোটদান, ভেঙে গেল আগের সব রেকর্ড?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় অভাবনীয় জনজোয়ার দেখা গেল। বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ার হার প্রায় ৮৯.৯৯ শতাংশ ছুঁয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, দুই দফায় আয়োজিত এবারের নির্বাচন অত্যন্ত সফল। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ায় এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গিয়েছে। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে আরও ভোট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিরাপত্তা ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন এবার ছিল আপসহীন। ১৪২টি আসনের ৪১ হাজারেরও বেশি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন, কোথাও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘিত হলে বা বুথ দখল হলে প্রয়োজনে পুনর্নির্বাচন করা হবে। ফালতা-সহ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় গোলমালের চেষ্টা করা হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে নির্বাচনের পরেও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাধিক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও অভিযোগ

ভোটের আবহে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাকযুদ্ধ তুঙ্গে। আরজি কর কাণ্ডের ছায়া পড়েছে নির্বাচনী ময়দানে। জলহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ দাবি করেছেন, পরিবর্তনের লক্ষে মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শাসক দলের দাবি, অনেক জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে।

রেকর্ড ভোটদানের নেপথ্যে

এবারের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থনের পেছনে নাগরিক সচেতনতা এবং আরজি কর কাণ্ড পরবর্তী জনআবেগকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নারী সুরক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থার দাবি সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করেছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে এই রেকর্ড শতাংশে।

এক ঝলকে

  • দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৮৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
  • ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে নির্বাচনের পরও রাজ্যে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
  • ১৪২টি আসনের ৪১ হাজার বুথে কঠোর নিরাপত্তায় সম্পন্ন হলো শেষ দফার নির্বাচন।
  • ভোটার তালিকা সংশোধন ও কড়া নজরদারির ফলেই এই বিপুল ভোটদান বলে মনে করছে কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *