বাংলার জনসংখ্যার ছবিটা কি বদলে যাচ্ছে? জনগণনা নিয়ে বড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে আগামী ১ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত জনগণনার কাজ। এই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে এই জনগণনা শুরুর আগেই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। নথিপত্রহীন অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দেশ ছাড়ার প্রবণতা। আজ, শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই সার্বিক পরিস্থিতি এবং রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জনবিন্যাস বদল ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। এই সুযোগে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী এ দেশে প্রবেশ করায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির জনবিন্যাস অনেকটাই বদলে গিয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বঙ্গ সফরে এসে এই অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে বারবার সরব হয়েছিলেন। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্ত এলাকা সিল করার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কড়া আইন ও পুশ ব্যাকের প্রভাব
বর্তমানে কার্যকর হওয়া নতুন ও কঠোর নিয়মানুযায়ী, অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আর আদালতে পেশ করা হবে না; বরং সরাসরি সীমান্তরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হবে। এই কড়া বার্তার পর থেকেই হাকিমপুর-সহ একাধিক সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডিজিটাল জনগণনার ভয়েই এখন প্রচুর বাংলাদেশি দেশ ছাড়ছেন। এমনকি বর্তমানে যারা হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন, তাদের কেউই বৈধ নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারবেন না। ১ জুনের ডিজিটাল জনগণনাকে সামনে রেখে রাজ্যের এই জনবিন্যাস সংক্রান্ত মন্তব্য ও প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
