বাংলার মসনদে কে? প্রাথমিক ট্রেন্ডে তৃণমূলকে ছাপিয়ে গেল বিজেপি! সেয়ানে-সেয়ানে টক্করে কাঁপছে নবান্ন

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শুরুতেই নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতা বা আর্লি ট্রেন্ড অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কিছুটা পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের বেশ কিছু আসনে পদ্ম শিবিরের দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান কমে আসছে এবং দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ‘সেয়ানে-সেয়ানে’ লড়াই চলছে।
ভবানীপুরে মমতার পিছিয়ে থাকা ও ওলটপালট সমীকরণ
প্রাথমিক গণনায় সবচেয়ে বড় চমক দেখা দিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুরে। ট্রেন্ড অনুযায়ী, গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ডে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এটি অত্যন্ত প্রাথমিক স্তরের তথ্য, তবুও এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এছাড়া নোয়াপাড়া, কৃষ্ণনগর এবং মানিকতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতেও বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বড় ফ্যাক্টর আরজি কর ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার আরজি কর কাণ্ড এবং নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুগুলো শহরের শিক্ষিত ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে, যা বিজেপির এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, গ্রামীণ বাংলায় তৃণমূলের মজবুত ভিত্তি এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। দুই দফার নির্বাচনে নজিরবিহীন ৯৩ শতাংশ ভোটদান শেষ পর্যন্ত কার পালে হাওয়া দেয়, তা জানতে এখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় গোটা বাংলা।
পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন?
প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপি ১০০-র বেশি আসনে এগিয়ে থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেসও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে গণনার পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে বড় ধরনের রদবদল ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুর ১২টার মধ্যেই বাংলার মসনদে কে বসছেন, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত ইভিএমের প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফল নিয়ে দুই শিবিরই চরম স্নায়ুচাপে ভুগছে।
