বাতিল তাজপুর প্রকল্প, বিকল্প দাদনপাত্রঘাটে গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ার মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা

বাতিল তাজপুর প্রকল্প, বিকল্প দাদনপাত্রঘাটে গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ার মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প বাতিল করল রাজ্য সরকার। জমি জট এবং উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবের জেরেই এই মেগা প্রকল্প থেকে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। তবে এই বাতিলের ধাক্কা সামলে জেলাবাসীর জন্য বিকল্প ও বড় আশার আলো দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাজপুরের পরিবর্তে তার থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দাদনপাত্রঘাটে এই গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার করণ আদানির সঙ্গে নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাম আমল থেকে শুরু করে বিগত তৃণমূল জমানা পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও শিল্পমহলে একরাশ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল, প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এই গ্রিনফিল্ড বন্দর প্রকল্প বদলে দেবে গোটা রাজ্যের অর্থনৈতিক চেহারা, সৃষ্টি হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান। ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার করণ আদানির হাতে এই প্রকল্পের লেটার অফ ইনটেন্টও (এলওআই) তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি জট ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় কাজ একচুলও এগোয়নি। রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর অবশেষে এই থমকে থাকা প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত ও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন বিজেপি সরকার।

জমি জট ও নতুন বিকল্পের সন্ধান

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাজপুরে বন্দর গড়ার মতো পর্যাপ্ত জমি এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের হাতে নেই। এমনকি সেখানে বন্দর তৈরির উপযোগী প্রয়োজনীয় কোনও পরিকাঠামোও বিগত দিনে গড়ে তোলা হয়নি। ফলে আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মুখ করণ আদানির সঙ্গে বৈঠকের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে তাজপুর প্রকল্প বাতিলের পাশাপাশি নতুন পরিকাঠামো গঠনের রূপরেখা স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাজপুরের আশা ছেড়ে এবার সমস্ত শক্তি দিয়ে দাদনপাত্রঘাটে নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ

তাজপুর হাতছাড়া হলেও মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরের দাদনপাত্রঘাটে বন্দর হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক জোয়ারের যে স্বপ্ন মেদিনীপুর তথা গোটা রাজ্যের মানুষ দেখছিলেন, তা অধরা থাকবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন এই বন্দরকে কেন্দ্র করে রাজ্যে বড়সড় শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেই সঙ্গে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে, যা রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *