বাপের বাড়ি থেকে ফেরার পথেই রহস্যজনক নিখোঁজ তরুণী! সিসিটিভির শেষ ফুটেজে যা দেখা গেল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হাড়োয়ার কচুরহুলার বাসিন্দা ২৬ বছরের এক তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। বাপের বাড়ি থেকে স্বামীর সঙ্গে ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান মীনাক্ষী সওদাগর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ভাঙড় থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত-আট বছর আগে তাঁদের ছোট মেয়ে জলে ডুবে মারা গিয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই গভীর মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন মীনাক্ষী। তাঁকে নিয়মিত ওষুধও খেতে হতো। তাঁর একটি সাত বছরের ছেলেও রয়েছে। স্বামী সৌরভ সওদাগর ঘটকপুকুরে কাজ করেন, যা মীনাক্ষীর বাপের বাড়ির একেবারেই কাছে।
প্রতি শনিবারে তাঁদের ছেলে বামনঘাটায় ক্রিকেট প্র্যাক্টিসে আসে। সেই সুবাদে শনি বা রবিবারে তাঁরা বাপের বাড়ি আসতেন। রথের মেলা উপলক্ষে এই সপ্তাহে মীনাক্ষী দু’দিন আগেই বাপের বাড়ি বামনঘাটায় এসেছিলেন এবং রবিবার তাঁর শ্বশুরবাড়ি ফেরার কথা ছিল।
কীভাবে নিখোঁজ হলেন?
স্বামীর বয়ান অনুযায়ী, রবিবার বাপের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঘটকপুকুর বাজার এলাকার মাদুহাটার কাছে স্ত্রীকে বসিয়ে রেখে তিনি ও ছেলে বাজারে যান। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন মীনাক্ষী সেখানে নেই। আশপাশে বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে নতুন তথ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে মীনাক্ষীকে রাস্তা পার হয়ে কিছুটা এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। এমনকি পুলিশ জানতে পেরেছে যে তিনি ২১৩ নম্বর একটি বাসেও উঠেছিলেন, যে বাসটি ঘটকপুকুর থেকে কলকাতার ধর্মতলার দিকে আসে।
তবে কলকাতায় মীনাক্ষী বা তাঁর পরিবারের কোনো পরিচিত বা আত্মীয় না থাকায় তিনি ঠিক কোথায় যেতে পারেন, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে পরিবার। বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, ছোট মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি সবসময়েই চুপচাপ থাকতেন এবং মানসিক সমস্যার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু এ ভাবে আচমকা বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি হারিয়ে যাবেন, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের কেউ। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তরুণীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
