বাবার বটির কোপে রক্তে ভেসেছিল দাদু, আদালতে নিজের জন্মদাতার বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিল ছেলে! – এবেলা

বাবার বটির কোপে রক্তে ভেসেছিল দাদু, আদালতে নিজের জন্মদাতার বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিল ছেলে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় নিজের জন্মদাতা পিতাকে বটি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুনের অপরাধে অবশেষে সাজা পেল গুণধর ছেলে। তবে এই মামলার সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, দাদুর খুনের বিচার পেতে বাবার বিরুদ্ধেই আদালতে দাঁড়িয়ে সত্য সাক্ষ্য দিল খোদ ছেলে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় শুক্রবার অভিযুক্তকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে বনগাঁ মহকুমা আদালত।

সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের চরম পরিণতি

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর। বনগাঁ থানার ঢাকা পাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধ চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের কাছে তাঁর ছেলে তপন বিশ্বাস সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। বৃদ্ধ চিত্তরঞ্জন সম্পত্তি লিখে দিতে আপত্তি জানালে, রাগের মাথায় ছেলে তপন ধারালো বটি নিয়ে নিজের বাবার ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাঁকে খুন করে। এই নৃশংস ঘটনার পরেই বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পুলিশ অভিযুক্ত তপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। তখন থেকেই সে জেল হেফাজতে ছিল।

বিচারের পথে প্রতিকূলতা ও নাতির সততা

মামলা চলাকালীন সময়ে আদালতের পরিবেশ বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে অভিযুক্তের স্ত্রীসহ আটজন সাক্ষীই পরবর্তীতে নিজেদের বক্তব্য বদলে ফেলেন এবং সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি তপন বিশ্বাসের নিজের ছেলে তন্ময় বিশ্বাস। নিজের দাদুকে নির্মমভাবে খুন হতে দেখা তন্ময় আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের বাবার বিরুদ্ধেই নির্ভীকভাবে সাক্ষ্য দেয়।

চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ (মেডিকেল প্রুফ) এবং নিজের বাবার বিরুদ্ধে ছেলে তন্ময় বিশ্বাসের দেওয়া অকাট্য সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক কুমকুম সিংহ অভিযুক্ত তপনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনান।

আইনজীবীদের মতে, এই রায় সমাজে একটি কঠোর বার্তা দেবে। পারিবারিক হিংসা এবং সম্পত্তির লোভে অন্ধ হয়ে অপরাধ করলে যে পার পাওয়া যায় না, তা এই রায়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো। বিশেষ করে সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের পরিবারের অন্য সদস্যরা পিছিয়ে গেলেও, নাতি যেভাবে দাদুর খুনের বিচার নিশ্চিত করতে বাবার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে, তা বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *