বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণে ৩৫ লাখের দেনায় যুবক, এখনও বাকি ৭ বোনের বিয়ে! – এবেলা

বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণে ৩৫ লাখের দেনায় যুবক, এখনও বাকি ৭ বোনের বিয়ে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাবার মৃত্যুর আগে দেওয়া এক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে কোটি টাকার ঋণের আশঙ্কায় পড়েছেন এক যুবক। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী পুত্র সন্তান হিসেবে ১০ বোনের বিয়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে ৩ বোনের বিয়ে দিতে গিয়েই ৩৫ লাখ টাকার ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন ওই যুবক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই আবেগঘন ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক।

অবাস্তব প্রতিশ্রুতির কঠিন বাস্তব

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কন্যাসন্তানের পর পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে জন্ম নেন এই যুবক। পরবর্তীতে তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর আগে ছেলের কাছ থেকে একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি নেন। বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল, পরিবারের অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই ছেলে যেন একাই ১০ বোনের ধুমধাম করে বিয়ে দেয়। তৎকালীন সময়ে আবেগের বশে বাবাকে কথা দিলেও, বর্তমানে বাস্তব জীবনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। ৩ বোনের বিয়েতেই ৩৫ লাখ টাকার ঋণ হয়ে যাওয়ায়, বাকি ৭ বোনের সামাজিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে গিয়ে এই দেনা ২ থেকে ৩ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপহার, সামাজিক রীতি ও আনুষঙ্গিক খরচের কারণেই মূলত ঋণের বোঝা এত দ্রুত বাড়ছে।

সামাজিক প্রভাব ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ যুবকের এই চরম ত্যাগ, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং পিতৃভক্তির ভূয়সী প্রশংসা করছেন। তবে অন্য অংশটি এই ঘটনাকে আধুনিক সমাজের এক অন্ধকার দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, পুত্র সন্তানের ওপর এমন অযৌক্তিক পারিবারিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করা অনুচিত। এই ঘটনা তরুণ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক দায় চাপিয়ে দেওয়ার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। যুবকের দাবি, বোনদের সমস্ত দায়িত্ব শেষ করে নিজের ঋণ মিটিয়ে তবেই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন, ততদিনে তাঁর বয়স হয়তো ষাট বা সত্তর ছুঁইছুঁই হবে। এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কেবল সামাজিক মর্যাদার খাতিরে ধুমধাম করে বিয়ে দিতে গিয়ে একটি পরিবারের দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানামুখী বিতর্ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *