বামেদের মিছিলের হিংসার প্রতিবাদে পদ্মশিবিরের ‘তিরঙ্গা যাত্রা’! শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা কাঁপাল বিজেপি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার কলকাতার বুকে বামেদের মিছিলকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছিল চরম অশান্তি। সেই মিছিলের শেষপ্রান্তে পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবার সোমবারে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র ডাক দিল বিজেপি। উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির উদ্যোগে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই সুশৃঙ্খল অথচ প্রতিবাদী মিছিলের আয়োজন করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল একটাই—আন্দোলনের নামে শহরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না, এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
এক নজরে শুক্রবারের অশান্তি:
- শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মিছিলে যোগ দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকরাও।
- মিছিল শেষে ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও বোতল ছোড়ার মতো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে।
- পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হেনস্থা করা হয় সাংবাদিকদেরও।
- এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি
সোমবারে আয়োজিত এই ‘তিরঙ্গা যাত্রা’য় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের হেভিওয়েট নেতারা। মিছিলে অংশ নিয়ে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য অনেকে ভোটে হেরে গিয়ে বা বড় কেলেঙ্কারির পরেও গদি ছাড়েননি। কিন্তু নৈতিকতার খাতিরে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। গণতন্ত্রে মানুষের রায়কে সম্মান জানানোটাই আসল।’
পাশাপাশি, বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, ‘মাত্র ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করলে চলবে না, অন্তত ৫১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা দরকার। অপরাধীদের দিয়ে পুনর্নির্মাণ নয়, এদের বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, এ দিন শুধু শিয়ালদহ-ধর্মতলাই নয়, একই সঙ্গে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্তও বিজেপির তরফে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ পালিত হয়। এদিনের মিছিলে ককরোচদের বিরুদ্ধে সরাসরি স্লোগান দিতে দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের, এমনকি হাতে কীটনাশক স্প্রে বোতল নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদের অভিনব দৃশ্যও নজর কাড়ে সকলের। যন্তর-মন্তরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার রাজপথে রাজনৈতিক উত্তাপ যে ফের চরমে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।
