বিজয়কে নিয়ে কি তবে অসন্তুষ্ট থালাইভা, অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন রজনীকান্ত! – এবেলা

বিজয়কে নিয়ে কি তবে অসন্তুষ্ট থালাইভা, অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন রজনীকান্ত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন অভিনেতা বিজয়। চারদিকে যখন তাঁকে নিয়ে উৎসবের আমেজ, তখনই দক্ষিণী মেগাস্টার রজনীকান্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক জোর গুঞ্জন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বিজয়ের জয়ের দিনে রজনীকান্তের নীরবতা এবং পরবর্তীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি জুনিয়রের এই অভাবনীয় উত্থান মেনে নিতে পারছেন না থালাইভা? সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার নিজেই মুখ খুললেন রজনীকান্ত।

চেন্নাইয়ের পোয়েস গার্ডেনের বাসভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বর্ষীয়ান এই অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিয়ে তাঁর মনে কোনো হিংসা বা অসন্তোষ নেই। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নন, তাই এই ধরনের ঈর্ষার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। রজনীকান্তের এই স্পষ্টীকরণ তামিল রাজনীতির সাম্প্রতিক উত্তাপকে অনেকটাই প্রশমিত করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্ট্যালিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও নীরবতার কারণ

ভোটের ফল প্রকাশের পর ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে রজনীকান্তের আকস্মিক দেখা করাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। এই বিষয়ে রজনীকান্ত জানান, স্ট্যালিন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু। রাজনৈতিক পরাজয়ের পর স্রেফ বন্ধুত্বের খাতিরে এবং তাঁকে সান্ত্বনা দিতেই তিনি গিয়েছিলেন, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের নীরবতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুপ থাকলে লোকে অনেক মিথ্যাকে সত্যি বলে ধরে নেয়, তাই তিনি আজ সত্যটা স্পষ্ট করতে এসেছেন। রজনীকান্ত জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কোনোদিন নোংরা বা নিচু মানসিকতার পরিচয় দেননি।

বিজয়ের অভাবনীয় উত্থানের প্রশংসা

বিজয়কে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানানোর কথা উল্লেখ করে রজনীকান্ত স্বীকার করেন, প্রথমবার ভোটে লড়েই বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা তাঁর কাছেও কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে হালকা ছলে তিনি মন্তব্য করেন, বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় হিংসা করার কিছু নেই, কমল হাসান মুখ্যমন্ত্রী হলে হয়তো একটু হিংসা হতো। বয়সে ২৪ বছরের ছোট বিজয়ের প্রশংসা করে থালাইভা বলেন, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মতো দুটি বড় দ্রাবিড় দলকে পেছনে ফেলে এভাবে ক্ষমতায় আসা সহজ কাজ নয়। বিজয় নিজের ক্ষমতায় জনগণের বিপুল সমর্থন আদায় করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তামিলনাড়ুর সংস্কৃতিতে সিনেমা ও রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রজনীকান্ত নিজে সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও তাঁর একটি মন্তব্য বা নীরবতা যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে, এই ঘটনাটি তারই প্রমাণ। রজনীকান্তের এই বার্তার পর বিজয় অনুগামী ও রজনী ভক্তদের মধ্যে তৈরি হওয়া সাময়িক দূরত্বের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *