‘বিজেপি কখনো ঘুমোয় না!’ বাংলার ভোট মিটতে না মিটতেই ২০২৭-এর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি পদ্ম শিবিরের

‘বিজেপি কখনো ঘুমোয় না!’ বাংলার ভোট মিটতে না মিটতেই ২০২৭-এর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি পদ্ম শিবিরের

ভারতীয় রাজনীতিতে প্রচলিত আছে যে বিজেপি কখনো ঘুমায় না। সেই আপ্তবাক্যকে সত্যি প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই আগামী বছরের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের ভোট নিয়ে যখন ব্যস্ত, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়েছে।

বিরামহীন নির্বাচনী কর্মসূচি

বিজেপির দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোতে ভোট চলাকালীনই জাতীয় নেতৃত্ব সাতটি রাজ্যের জন্য ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক’ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিরোধী দলগুলো যখন বর্তমান নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, বিজেপি তখন ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ছক সাজাচ্ছে। দলের কৌশল স্পষ্ট—বিজেপি কেবল ভোটের সময় সক্রিয় হয় না, বরং সারা বছরই নির্বাচনী মেজাজে থাকতে পছন্দ করে।

শীর্ষ নেতৃত্বের ঝটিকা সফর ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক

দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ইতোমধ্যে গোয়া, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশ সফর সেরে ফেলেছেন। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আগামী বছরের রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে উত্তরাখণ্ড সফরের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, মণিপুর এবং হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা বা ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যেই এই আগাম তৎপরতা।

বিজেপির এই অবিরাম সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে তারা কেবল তাৎক্ষণিক ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিটি বুথ স্তরে নিজেদের অবস্থান মজবুত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। একদিকে যখন বাংলার ভোটের ফল নিয়ে জনমনে উত্তেজনা তুঙ্গে, বিজেপি তখন নিঃশব্দে পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।

এক ঝলকে

  • পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীনই উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটসহ ৭ রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু।
  • নির্বাচন শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে ২০২৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব।
  • জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বিভিন্ন রাজ্যে ঝটিকা সফর করে রণকৌশল সাজাতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন।
  • সাংগঠনিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের ‘নির্বাচনী যন্ত্র’ হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাখাই বিজেপির প্রধান উদ্দেশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *