বিজেপি করার অপরাধে যুবককে বেধড়ক মারধর, কাঠগড়ায় খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা! – এবেলা

বিজেপি করার অপরাধে যুবককে বেধড়ক মারধর, কাঠগড়ায় খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে রাজনৈতিক হিংসার এক মারাত্মক ঘটনা সামনে এসেছে। বিজেপি করার অপরাধে এক যুবককে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। আক্রান্ত যুবকের নাম নুরুল হোসেন, যিনি এলাকায় বিজেপির বুথ সভাপতি হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বারাসাত জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষমতার দাপট ও নৃশংস আক্রমণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দত্তপুকুর থানার অধীন মোষপোল এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা আব্দুল মহিদ এবং তাঁর দলবল আচমকাই নুরুল হোসেনের বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুলকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গ্রামবাসীদের মারফত খবর পেয়ে দত্তপুকুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। তবে ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত বা তার কোনো অনুগামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

এই ঘটনার পেছনে এলাকার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হওয়ায় সেখানে পুলিশ সহজে ঢুকতে চায় না, আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পাশাপাশি, মামলার তদন্তকারী অফিসার, নীলগঞ্জ ফাঁড়ির এস আই সঞ্জীব রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্তের পরিবার ও গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, অভিযুক্ত আব্দুল মহিদ রাজ্য সরকারের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুগামী হওয়ায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করছে।

এলাকায় ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এর আগেও নারায়ণগঞ্জ পুকুরিয়া অঞ্চলের একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া মোষপোল এলাকায় তোলাবাজি, জলাজমি ও পুকুর ভরাট, অবৈধ নির্মাণ এবং নিষিদ্ধ মাদক কারবারের মতো একাধিক সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়েছে। বারবার পার পেয়ে যাওয়ার এই সংস্কৃতির কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে দত্তপুকুর ও সংলগ্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার বড়সড় অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *