মাঝ রাস্তায় হঠাৎ ট্রেনের বিকট আওয়াজ! ভয়ে ছুটল পুলিশ, আসল কাণ্ড দেখে নেটিজেনদের চোখ চড়কগাছ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ডেস্ক রিপোর্ট: রেললাইন নেই, তাও হঠাৎ রাজপথ কাঁপিয়ে বেজে উঠল ট্রেনের বিকট হুইসেল! এমন অদ্ভুত এবং ভয়ংকর কাণ্ডে মুহূর্তে শোরগোল পড়ে গেল চারদিকে। রাস্তায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাইক চালক— আতঙ্কে সবার বুক কেঁপে ওঠার জোগাড়। ভাবলেন, রেললাইন ছাড়াই বুঝি রাস্তায় ট্রেন চলে এসেছে!
আওয়াজ এতটাই তীব্র ছিল যে, কী ঘটেছে দেখতে ঘটনাস্থলে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে ট্রাফিক পুলিশও। কিন্তু সেখানে পৌঁছে যা দেখলেন, তাতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও মাথায় হাত!
ট্রেন নয়, আওয়াজ আসছিল সাধারণ বাইক থেকে!
আসল বিষয় হলো, ট্রেনের মতো ওই ভয়ংকর আওয়াজ কোনো রেল ইঞ্জিন থেকে আসছিল না; আসছিল একটি সাধারণ ‘হিরো এইচএফ ডিলাক্স’ (Hero HF Deluxe) বাইক থেকে। ওই বাইক চালক যুবক নিজের গাড়িতে ট্রেনের হর্নের মতো হুবহু আওয়াজ করা একটি বিশাল ‘মডিফাইড প্রেসার হর্ন’ লাগিয়ে নিয়েছিলেন। আর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অনবরত সেটি বাজিয়ে সাধারণ পথচারী ও অন্যান্য চালকদের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছিলেন।
হর্ন বাজিয়ে পুলিশও তাজ্জব!
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাফিক পুলিশ ওই যুবককে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাইকে ট্রেনের হর্ন লাগানো হয়েছে শুনে পুলিশ কর্মীরা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। এরপর নিজেরা যখন হর্নটি বাজিয়ে পরীক্ষা করেন, তখন সেই কান ফাটানো আওয়াজে আশেপাশের সবাই হাত দিয়ে কান চেপে ধরেন। ট্রাফিক আইন ভাঙা এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর অপরাধে পুলিশ ওই বাইক চালককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি ঠিক কোথাকার, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ:
ভিডিওটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ওই যুবকের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, রাস্তায় কোনো হৃদরোগী বা বয়স্ক মানুষ থাকলে আচমকা এই আওয়াজে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বাজারে এই ধরণের হর্ন বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
আইন কী বলছে?
ভারতে ব্যক্তিগত গাড়িতে (বাইক বা গাড়ি) প্রেসার হর্ন, এয়ার হর্ন বা মাল্টি-টোন হর্ন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। মোটর যান আইন (Motor Vehicles Act) অনুযায়ী, এই নিয়ম অমান্য করলে মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। সাধারণত এই অপরাধে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত চালান কাটা হতে পারে।
