“বিজেপির বাহিনী নয়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডা আর জল্লাদ!”— উদয়নারায়ণপুরে বৃদ্ধের মৃত্যুতে অগ্নিরূপী অভিষেক

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন এই বাহিনীকে ‘বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী’ এবং ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডাদের দল’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। অভিষেকের দাবি, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়ে এই বাহিনী কার্যত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে।
রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও চরম উত্তেজনা
উদয়নারায়ণপুরের একটি বুথে শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে ছেলের হাত ধরে ভোট দিতে গিয়েছিলেন এক বৃদ্ধ। অভিযোগ উঠেছে, বুথে প্রবেশের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাবা ও ছেলে উভয়কেই ধাক্কা মারে এবং চরম হেনস্থা করে। এই ঘটনার আকস্মিকতায় ওই বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে ‘ঠান্ডা মাথার নৃশংস হিংসা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
শীতলকুচি ছায়া ও পরিণতির হুঁশিয়ারি
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১-এর শীতলকুচি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোররাত থেকেই মহিলা ও বৃদ্ধদের ওপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে জওয়ানরা। বাহিনীর এই আচরণকে ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দোষী প্রত্যেক সদস্যকে চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার প্রভাবে নির্বাচনের বাকি দফাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী বনাম রাজ্য শাসকদলের সংঘাত আরও তীব্রতর হতে পারে।
এক ঝলকে
- উদয়নারায়ণপুরে বুথে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘জল্লাদ’ ও ‘বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এই ঘটনাকে ২০২১-এর শীতলকুচি মানসিকতার পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
- তৃণমূলের দাবি, বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ ভোটার ও মহিলাদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে।
