বিধানসভায় সই জালিয়াতি! আসলে কী ঘটেছিল? সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ – এবেলা

বিধানসভায় সই জালিয়াতি! আসলে কী ঘটেছিল? সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভায় পরিষদীয় দলের চিঠিতে সই জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার জেরে দলের দুই বিধায়ক বহিষ্কৃত হওয়ার পর, অর্ধেকের বেশি বিধায়ক পাল্টা বিদ্রোহ ঘোষণা করায় দলটি এখন খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই বিতর্কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের নাম জড়ানোয় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি) ইতিমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।

তদন্তে সিআইডি এবং ভাঙনের মুখে শাসক শিবির

গত ৯ মে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই সম্বলিত তৃণমূল পরিষদীয় দলের একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত ২৭ মে জমা পড়া সেই রেজলিউশন কপিতে বেশ কয়েকজন বিধায়কের নাম ‘ব্লক লেটারে’ সই করা ছিল, যা তীব্র সন্দেহের জন্ম দেয়। দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, ১৪ জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে এবং ৬ মে-র ওই রেজলিউশনটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। এই অভিযোগের পরই ওই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দলীয় কোন্দল চরম রূপ নেয় যখন তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে যোগ দেন। ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করে একটি নতুন তৃণমূল দল গঠনের জল্পনা এখন তুঙ্গে, যা কার্যত দলটিকে দুই ভাগে ভাগ করে দিচ্ছে।

নেতাদের বাড়িতে হানা ও আইনি লড়াই

হেয়ার স্ট্রিট থানায় প্রাথমিক এফআইআর দায়েরের পর মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডি-র হাতে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সিআইডি প্রতিনিধিদল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় এবং পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়। এছাড়া চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও যায় গোয়েন্দারা। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায় এবং মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাসের হাতের লেখার নমুনাও সংগ্রহ করেছে আদালত।

অন্যদিকের মূল অভিযুক্ত সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ জুন ভবানী ভবনে তলব করা হলেও তিনি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হননি। আগামী ৮ জুন তাঁকে পুনরায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারির আশঙ্কায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে আইনি রক্ষাকবচ চেয়েছেন, যার শুনানি আজ কলকাতা হাইকোর্টে নির্ধারিত রয়েছে। একদিকে দুর্নীতি ও ‘চোর’ অপবাদে জর্জরিত তৃণমূল, অন্যদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সিআইডি-র এই সাঁড়াশি চাপ দলটিকে চরম কোণঠাসা ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *