বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খাচ্ছেন? অজান্তেই লিভার-কিডনি বিকল করছেন না তো! – এবেলা

বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খাচ্ছেন? অজান্তেই লিভার-কিডনি বিকল করছেন না তো! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জ্বর, সর্দি বা শরীরের সামান্য ব্যথায় ওষুধের দোকান থেকে নিজেই ওষুধ কিনে খাওয়ার প্রবণতা বর্তমান সময়ে মহামারীর আকার ধারণ করেছে। প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে গ্যাসের ওষুধ— সাধারণ মানুষের কাছে এগুলো এখন নিত্যদিনের অনুষঙ্গ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ বা ওটিসি ওষুধ বলা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এবং অপরিকল্পিতভাবে এই ওষুধগুলোর সেবন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।

অজান্তেই বিকল হচ্ছে লিভার ও কিডনি

সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বা ব্যথায় প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মাসের পর মাস চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খেলে সরাসরি লিভারের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। একইভাবে পেশির ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের জন্য ব্যবহৃত আইবুপ্রোফেন পেটের আলসার থেকে শুরু করে কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি এই ধরনের ব্যথানাশক ওষুধের অপব্যবহার রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ এবং বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

গ্যাসের ওষুধ ও অ্যান্টি-অ্যালার্জির মরণফাঁদ

অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য ওমেপ্রাজল জাতীয় ওষুধ এখন ঘরে ঘরে জনপ্রিয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, দিনের পর দিন এই ওষুধ খাওয়ার ফলে হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অ্যালার্জি কমাতে বহুল ব্যবহৃত সেটিরিজিন দীর্ঘদিন খেলে স্নায়বিক দুর্বলতা, ঝিমুনি এবং মনঃসংযোগের অভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া বা কাশির জন্য ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধগুলোও হৃদরোগ বা স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা তৈরির ক্ষমতা রাখে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

চিকিৎসা ব্যয় বাঁচানো এবং তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়ার লক্ষ্যেই মূলত মানুষ প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনেন। কিন্তু এই সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া মুঠো মুঠো ওষুধ সেবনের ফলে ওষুধের ওপর আসক্তি তৈরি হয় এবং একসময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের মতে, ওটিসি ওষুধ জরুরি প্রয়োজনে সহায়ক হলেও, যেকোনো শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়ে একটানা ওষুধ খাওয়া জীবনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *