বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে এবার তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু

বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে এবার তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটল। বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক চুকিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। রবিবার বিকেলে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ কীর্তি আজাদের উপস্থিতিতে তিনি তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। চন্দ্র বসুর এই দলবদল কেবল রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং আদর্শগত সংঘাতের এক বড় প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদর্শগত লড়াই ও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরপরই বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন চন্দ্র বসু। তাঁর মতে, ভারতীয় জনতা পার্টির বর্তমান কার্যকলাপ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপিতে থেকে নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করা আসাম্ভব হয়ে পড়েছিল। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ‘বিভাজনের রাজনীতি’ ও ‘সাম্প্রদায়িক ঘৃণা’র প্রসারের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই তিনি তৃণমূলের ছাতার তলায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অতীত ইতিহাস

চন্দ্র বসু ২০১৬ সালে ঘটা করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ওই বছরই ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে তিনি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও কোনো নির্বাচনেই তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। গত কয়েক বছর ধরে দলের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছিল। অবশেষে ২০২৩ সালে তিনি বিজেপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

তৃণমূলের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থা

বিজেপি ছাড়ার পর থেকেই চন্দ্র বসুর গলায় একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা শোনা গিয়েছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিজের বিজেপি যোগদানের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি। তাঁর মতে, কেবল ভোট জেতার তাগিদে ভোটারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ হতে পারে না। নেতাজির পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি মনে করেন, তৃণমূলের মাধ্যমেই ধর্মনিরপেক্ষতা ও ঐক্যের লড়াইকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

এক ঝলকে

  • দলবদল: বিজেপি ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন চন্দ্র বসু।
  • উপস্থিতি: মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও সাংসদ কীর্তি আজাদের হাত ধরে ঘাসফুল শিবিরে যোগদান।
  • প্রধান কারণ: বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
  • পুরানো অবস্থান: ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়াই করেছিলেন।
  • রাজনৈতিক বার্তা: দেশকে বাঁচাতে এবং নেতাজির আদর্শ বাস্তবায়নে তৃণমূলকেই সঠিক মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *