বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে মার্কিন আদালতের কাঠগড়ায় ফিফা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। আমেরিকার মাটিতে বিশ্বফুটবলের এই মেগা আসরকে ঘিরে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই টিকিট বিক্রি নিয়ে বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। টিকিটের অতিরিক্ত দাম এবং আসন বরাদ্দ সংক্রান্ত অস্বচ্ছতার অভিযোগে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকার আদালত। মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে তীব্র চাপে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
আইনি তদন্তের মুখে ফিফা
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট যৌথভাবে ফিফার বিরুদ্ধে এই তদন্তের ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রির পদ্ধতি এখন প্রশাসনের আতশকাচের নিচে। উল্লেখ্য, আগামী ১৯ জুলাই এই মাঠেই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যেই আদালতের পক্ষ থেকে ফিফাকে সমন পাঠানো হয়েছে। যেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, কীভাবে ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রি হয়েছে, টিকিটের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া কী ছিল এবং আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
মূল অভিযোগ ও ডায়নামিক প্রাইসিং বিতর্ক
ফিফার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ দুটি—অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন বরাদ্দে বিভ্রান্তি। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯০টিরও বেশি ম্যাচের টিকিটের দাম গড়ে প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম বর্তমানে ঠেকেছে রেকর্ড ৩২,৯৭০ মার্কিন ডলারে, যেখানে তদন্ত শুরুর আগে সর্বনিম্ন টিকিটের দামই ছিল ৬,৭৩০ ডলার। এর পাশাপাশি বহু দর্শক অভিযোগ করেছেন, টিকিট কেনার সময় প্রদর্শিত মানচিত্রটি অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর ছিল, যার ফলে চড়া দাম দিয়েও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত আসন পাননি।
এই চরম মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ফিফার চালু করা নতুন ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি। এই ব্যবস্থায় টিকিটের চাহিদা অনুযায়ী রিয়েল টাইমে দাম পরিবর্তিত হয়। আমেরিকার ক্রীড়া ও বিনোদন জগতে এই পদ্ধতি প্রচলিত হলেও, ফুটবল বিশ্বকাপে এর প্রয়োগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের কারণে যাঁরা টিকিটের জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাঁদের পকেট বেশি কেটেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে টিকিটের দাম চলে যাওয়াকে সমর্থক সংগঠনগুলো ‘ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে। তীব্র সমালোচনার মুখে ফিফা ৬০ ডলারের কিছু স্বল্পমূল্যের টিকিট বাজারে ছাড়লেও তা ছিল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। মার্কিন আদালতের এই তদন্তের ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর মুখে ফিফার ভাবমূর্তি যেমন ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে টিকিট বিক্রি ওpricing পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের চাপ তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে।
