বিশ্বকাপের মহোৎসবে ধর্মঘটের মেঘ, মেক্সিকোয় শিক্ষক আন্দোলনে ব্যাকফুটে ফিফা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা খেল ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো। মেগা টুর্নামেন্ট শুরু হতে যখন আর এক মাসও বাকি নেই, ঠিক তখনই দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিল সে দেশের প্রভাবশালী শিক্ষকদের সংগঠন সিএনটিই (CNTE)। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই হাই-প্রোফাইল সময়ে শিক্ষকদের এই আন্দোলনের ডাক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা এবং মেক্সিকো সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষকেরা
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেতন বৈষম্য, পেনশনের অধিকার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন আরও তীব্র করার বার্তা দিয়েছে সিএনটিই। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ‘আইএসএসএসটিই’ আইন নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি, যা সরকারি কর্মচারীদের পেনশন কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। সম্প্রতি মেক্সিকোর ‘টিচার্স ডে’-তে হাজার হাজার শিক্ষক রাস্তায় নেমে নিজেদের দাবিকে ‘নন-নেগোশিয়েবল’ বা আপসহীন বলে ঘোষণা করেছেন। শিক্ষক সংগঠনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপ চলাকালীনই জাতীয় স্তরে ধর্মঘট পালন করা হবে, যা টুর্নামেন্টের স্বাভাবিক ছন্দকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করতে পারে।
পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় জটিলতা
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিশ্বকাপ নির্বিঘ্ন করতে মেক্সিকোর শিক্ষা মন্ত্রক স্কুল ছুটির সময় এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল। তীব্র গরম ও বিশ্বকাপ আয়োজনের অজুহাতে ১৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে ৫ জুন স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, শিক্ষক ও অভিভাবকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়। ফলে বিশ্বকাপ চলাকালীন স্কুল খোলা থাকছে এবং একই সময়ে ধর্মঘটের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগেও ২০২৫ সালে এই শিক্ষক আন্দোলনের জেরে মেক্সিকো সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এবার সেই একই অসন্তোষ বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় চলে আসায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে মেক্সিকো সরকার ও ফিফার ভাবমূর্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
