বিশ্বকাপের রণকৌশলে কোন ফর্মেশন এগিয়ে আর কারাই বা পিছিয়ে পড়ল? – এবেলা

বিশ্বকাপের রণকৌশলে কোন ফর্মেশন এগিয়ে আর কারাই বা পিছিয়ে পড়ল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ট্রফি জয়ের লড়াই শুধু মাঠের ফুটবলারদের পায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর পেছনে ডাগআউটে বসে থাকা কোচেদের মস্তিষ্কের লড়াইও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোন দল কেমন খেলবে, তা নির্ধারণ করে দেয় তাদের ফর্মেশন। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের খেলাগুলোতে দেখা যাচ্ছে নানামুখী কৌশলগত পরিবর্তন। গোলরক্ষক বাদে মাঠের বাকি ১০ ফুটবলারকে সাজানোর এই ছকই এবার গড়ে দিচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য। অনেক কোচ ঐতিহ্যবাহী রক্ষণাত্মক কৌশলে ভরসা রাখছেন, আবার অনেকেই ঝুঁকছেন আধুনিক আক্রমণাত্মক ফুটবলের দিকে।

জনপ্রিয়তায় ঐতিহ্যবাহী ছক, সাফল্যের শীর্ষে আধুনিক কৌশল

গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪ ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৪-৪-২ ফর্মেশন। টুর্নামেন্টের ৪৮টি দলের মধ্যে ১২টি দলই চার ডিফেন্ডার, চার মিডফিল্ডার ও দুই ফরোয়ার্ডের এই ভারসাম্যের চেনা ছকে মাঠে নেমেছে। তবে মাঠের খেলায় জনপ্রিয় এই বিন্যাস খুব একটা সফল হতে পারেনি। এই ছকে খেলে মাত্র দুটি দল জয়ের মুখ দেখেছে—হাইতির বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ড এবং ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে আইভরি কোস্ট।

এর বিপরীতে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কার্যকর ছক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছে ৪-২-৩-১ ফর্মেশন। ১০টি দল এই কৌশল ব্যবহার করে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছে। দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার দিয়ে রক্ষণভাগ সুরক্ষিত রেখে একমাত্র স্ট্রাইকার ও তাঁর পেছনের তিন আক্রমণাত্মক ফুটবলারকে কাজে লাগানোর এই কৌশলে বাজিমাত করেছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মতো দলগুলো।

আক্রমণাত্মক ফুটবলের জয়জয়কার ও বড় দলগুলোর দাপট

চলতি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে সবচেয়ে সফল ফর্মেশনগুলোর একটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ৪-১-২-৩ ছক। চার ডিফেন্ডার, এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, দুই মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে সাজানো এই বিন্যাসে খেলেছে আটটি দল। একজন মাত্র রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার থাকায় আক্রমণে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে দলগুলো, যার ফলে মেক্সিকো, নরওয়ে, ঘানা এবং কলম্বিয়ার মতো দলগুলো তাদের প্রথম ম্যাচেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট স্পেন ও নেদারল্যান্ডসও এই আক্রমণাত্মক ছক বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে, লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনা নিজেদের চেনা ৪-৩-৩ ফর্মেশনেই সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ে মেসির হ্যাটট্রিকের পেছনেও ছিল এই ছকের নিখুঁত কার্যকারিতা। ১৯৭০ সালের পেলের ব্রাজিল বা ২০২২ সালে আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ জয়ের পেছনেও ছিল এই ঐতিহাসিক কৌশল।

এছাড়া পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণাত্মক কৌশলে দলগুলো খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। ৫-৩-২ ফর্মেশনে এখন পর্যন্ত কোনো জয় আসেনি, যদিও পর্তুগালের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে চমক দিয়েছে কঙ্গো। তবে ভিন্ন কৌশলে আলো ছড়াচ্ছে জার্মানি। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেলে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাতটি গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। প্রতিপক্ষ এবং ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কোচেদের এই প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তনই এবারের বিশ্বকাপকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *