“বেআইনি নির্মাণে কালো টাকা?” পুরসভাকে কড়া তোপ দেগে বড় পদক্ষেপ আদালতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 12, 20265:33 pm
কলকাতার একাধিক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েকশো কোটি টাকার বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-কে প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সিবিআই-কে অনুসন্ধানের প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
রাজাবাজার, বেলেঘাটা, ক্যানাল স্ট্রিট ও মানিকতলা সহ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পুরসভার কোনো অনুমোদন বা স্যাংশন প্ল্যান ছাড়াই একাধিক বহুতল গড়ে তোলা হয়েছে বলে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় প্রাথমিকভাবে ৪২টি বহুতল চিহ্নিত করা হলেও, অভিযোগের তালিকায় অন্তত ৫৫টি এমন বেআইনি নির্মাণের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ, পুরসভার একাংশের আধিকারিকদের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এই বড় চক্র। শুধু নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যেও এই নির্মাণগুলিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ জানান মামলাকারী।
মামলাটির গুরুত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সিবিআই প্রয়োজনে এই তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করতে পারবে। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে পুরসভা ও পুলিশকে সব ধরনের নথি দিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানি চলাকালীন কলকাতা পুরসভার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। পুরসভা কেন এতদিন কোনো স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার কথা বলে পুরসভার সময় চাওয়ার প্রবণতাকে ‘সময় নষ্টের কৌশল’ হিসেবে চিহ্নিত করে আদালত স্পষ্ট জানায়, “সরকারি আধিকারিকেরা কাজ করার জন্য বেতন পান, কাজ না করার জন্য নয়।”
২০২৪ সালের মার্চ মাসে মামলাকারী প্রথম এই বিশাল অঙ্কের বেআইনি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার আড়ালে কালো টাকা বিনিয়োগের চক্রটির কথা জানতে পারেন। এরপরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের এই কড়া পদক্ষেপের পর কলকাতার বেআইনি নির্মাণ ও এর পেছনের চক্রটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে চলেছে সিবিআই।
