বেজিংয়ে ধুন্ধুমার! ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকের আড়ালে ‘প্রোটোকল যুদ্ধ’, হাতাহাতিতে জড়ালেন নিরাপত্তারক্ষীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাই-প্রোফাইল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বেইজিং। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনা যখন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত, তখন পর্দার আড়ালে সাংবাদিক, নিরাপত্তা সংস্থা এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। চিনের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও প্রোটোকল নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই টানাপড়েনকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ‘প্রোটোকল যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করছে।
নিরাপত্তাকর্মী ও সাংবাদিকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি
বৈঠকের শুরু থেকেই বেইজিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরুর প্রাক্কালে চিনা সংবাদমাধ্যমের একটি দল আচমকা অনুষ্ঠানস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এই সময় হোয়াইট হাউসের এক কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’-এ প্রবেশের সময় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের সঙ্গে চিনা নিরাপত্তারক্ষীদের ৩০ মিনিট ধরে বিতর্ক চলে। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের কাছে অস্ত্র থাকায় তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, যা সাধারণত মার্কিন নিরাপত্তা প্রোটোকলের অংশ। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ বাদানুবাদের পর পরিস্থিতির কিছুটা সমাধান হলেও দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিক্ততা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কঠোর নজরদারি ও সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধি-নিষেধ
পুরো সফরজুড়ে মার্কিন সাংবাদিকদের গতিবিধির ওপর চিনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন সাংবাদিকদের সাময়িকভাবে প্রেসিডেন্টের মোটরকেড থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি আলাদা ঘরে আটকে রাখা হয়। এছাড়া প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও পানীয় জলের বোতল বাজেয়াপ্ত করা এবং শৌচাগার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের মতো ঘটনা মার্কিন প্রতিনিধিদের ক্ষুব্ধ করেছে। এমনকি ‘রাশ আওয়ার ৪’ চলচ্চিত্রের একটি শুটিং দলের উপস্থিতি এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রার বিভ্রান্তি যোগ করে।
ঘটনার কারণ ও কূটনৈতিক প্রভাব
এই উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে দুই দেশের নিরাপত্তা প্রোটোকলের ভিন্নতা এবং চিনের অতি-সতর্ক নজরদারি ব্যবস্থাকে দায়ী করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিরা একে পেশাদারিত্বের অভাব হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে চিন তাদের ভূখণ্ডে নিজস্ব সার্বভৌম নিয়ম বজায় রাখতে অনড় ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার সংকটকে আরও প্রকট করতে পারে। ২০১৭ সালেও ট্রাম্পের চিন সফরে ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ বহন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অনুরূপ টানাপড়েন দেখা গিয়েছিল। বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক এই ঘটনাক্রম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত আলোচনার বাইরেও দুই পরাশক্তির মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক লড়াই সমানতালে চলছে।
