বেড়ার ওপারে বন্দি বারোশ প্রাণ, এবার কি তবে কাটবে কাঁটাতারের গেরো? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
করিমপুর বিধানসভার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চর মেঘনা গ্রামের মানুষের কাছে এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই। ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৬ সাল থেকে গ্রামটি কাঁটাতারের ওপারে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক জটিলতা আর ভৌগোলিক অবস্থানের গ্যাঁড়াকলে আটকে থাকা এই গ্রামের ১৪০টি পরিবারের প্রায় ১২০০ মানুষের কাছে এবারের ভোটের প্রধান এবং একমাত্র ইস্যু হলো কাঁটাতারের যন্ত্রণা থেকে স্থায়ী মুক্তি।
বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস ও নাগরিক পরিচয়
ছিটমহল বিনিময়ের তালিকায় নাম না থাকলেও চর মেঘনার বাসিন্দাদের দীর্ঘ আইনি ও সামাজিক লড়াইয়ের পর গ্রামটি ভারতভুক্ত হয়। তবে মানচিত্রে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি মিললেও বাস্তবে গ্রামবাসীদের জীবন থমকে আছে সীমান্তের ওপারেই। মূলত ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সময় গ্রামটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে গ্রামের প্রবেশপথে বিএসএফ-এর কড়া নজরদারি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার কড়াকড়ি এই জনপদকে কার্যত এক উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে।
ভোটের ইস্যু ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতিবার ভোটের সময় কাঁটাতারের ভেতরে আসার আশ্বাস মিললেও পরে আর তার প্রতিফলন দেখা যায় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য বেড়া পার হয়ে মূল ভূখণ্ডে আসার ক্ষেত্রে তাঁদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। কৃষিকাজই এই গ্রামের প্রধান জীবিকা হলেও উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনা এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই বন্দি দশা অব্যাহত থাকলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মূল সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা বাড়বে এবং গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। তাই এবার গ্রামটিকে বেড়ার ভেতরে আনার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ভোটাররা।
এক ঝলকে
- ১৯৯৬ সাল থেকে করিমপুরের চর মেঘনা গ্রামটি কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
- গ্রামটিতে প্রায় ১৪০টি পরিবারের ১২০০ ভারতীয় নাগরিক বন্দি দশায় জীবনযাপন করছেন।
- দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গ্রামটি ভারতভুক্ত হলেও তাঁদের ভৌগোলিক অবস্থান ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।
- এবারের নির্বাচনে গ্রামটিকে কাঁটাতারের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করাই স্থানীয়দের প্রধান দাবি।
