বৌদির হাঁসুয়ার কোপে দেওর খুন, মালদার মোথাবাড়িতে গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত নারী

বৌদির হাঁসুয়ার কোপে দেওর খুন, মালদার মোথাবাড়িতে গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত নারী

মালদার মোথাবাড়ি থানার অন্তর্গত দেবীপুর এলাকায় পারিবারিক বিবাদের জেরে দেওরকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর বড় বৌদির বিরুদ্ধে। গত রবিবার রাতের এই হামলায় গুরুতর আহত যুবক সম্রাট মন্ডল (২৫) মঙ্গলবার সকালে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নারীকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

বিবাদের সূত্রপাত ও মর্মান্তিক পরিণতি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর সম্রাট মন্ডলের সঙ্গে তাঁর বড় বৌদি পূজা মন্ডলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ, সম্রাটের মা দেবী মন্ডলের ওপর পূজার অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় দেওরের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। গত ৩ মে রবিবার রাতে ঝগড়া চরম আকার ধারণ করলে পূজা আচমকা একটি হাঁসুয়া নিয়ে সম্রাটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সম্রাটকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

জনরোষ ও পুলিশের ভূমিকা

সম্রাটের মৃত্যুর খবর দেবীপুর গ্রামে পৌঁছাতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত পূজা মন্ডলকে ধরে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে মোথাবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে। তবে উত্তেজিত জনতা মৃতদেহ আটকে রেখে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মৃতের স্ত্রী জয়শ্রী মন্ডলের দাবি, ঈর্ষা থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের পর সম্রাট মন্ডলের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *