ভবানীপুরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে দানা বাঁধছে বিতর্ক

ভবানীপুরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে দানা বাঁধছে বিতর্ক

ভোটের প্রাক্কালে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটার তালিকা সংশোধনী নিয়ে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) মাধ্যমে এই কেন্দ্র থেকে যে সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার মধ্যে একটি বড় অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। জনসংখ্যার অনুপাতের তুলনায় এই বাদ পড়ার হার অস্বাভাবিক বলে দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

জনসংখ্যার অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিসংখ্যান

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর কেন্দ্রে যাচাই-বাছাইয়ের পর মোট ৩,৮৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১,৫৫৪ জন মুসলিম এবং ২,৩২১ জন হিন্দু, জৈন ও শিখসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। সংখ্যার বিচারে অ-মুসলিমদের সংখ্যা বেশি মনে হলেও, শতাংশের হিসাবে দেখা যাচ্ছে বাদ পড়া ভোটারদের ৪০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম। যেখানে ভবানীপুরের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২০ থেকে ২৪ শতাংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী, সেখানে ৪০ শতাংশ নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ভোটার তালিকার বর্তমান চিত্র ও বিচ্যুতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, ভবানীপুরে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৫৯,২০১ জন। এর জাতিগত বিন্যাস নিম্নরূপ:

  • বাঙালি হিন্দু: প্রায় ৪২ শতাংশ
  • অবাঙালি হিন্দু: প্রায় ৩৪ শতাংশ
  • মুসলিম: প্রায় ২৪ শতাংশ

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বানানের সামান্য ভুল বা একই পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার মতো ঠুনকো অজুহাত দেখানো হয়েছে। খসড়া তালিকায় প্রথমে প্রায় ৪৪ হাজার নাম বাদ পড়ার কথা থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় তা কমেছে, তবে ‘নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া’র অধীনে বাদ পড়া নামের তালিকায় বৈষম্যের ছাপ স্পষ্ট।

নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ ও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রভাব

ভবানীপুরের এই চিত্রটি একা নয়; নন্দীগ্রামের উদাহরণও এই বিতর্ককে উসকে দিচ্ছে। সেখানে বাদ পড়া ২,৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বলে দাবি করা হয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব নির্বাচনী ক্ষেত্র এবং এখান থেকেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে হাই-ভোল্টেজ এই কেন্দ্রে ভোটার তালিকা নিয়ে এমন অসামঞ্জস্য নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

একঝলকে

  • ভবানীপুরে মোট ৩,৮৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
  • বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি মুসলিম, যা জনসংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণ।
  • মোট ভোটারের মধ্যে ২৪ শতাংশ মুসলিম হলেও নাম বাদ যাওয়ার হারে ব্যাপক অসামঞ্জস্য।
  • বানান ভুল বা পরিবারের সদস্য সংখ্যা আধিক্যের কারণে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ।
  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *