ভয় আউট আর ভরসা ইন, ভবানীপুর থেকে কাটমানি ও তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজের নতুন নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রথম জনসভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান থেকে এলাকার বাসিন্দাদের অভয় দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, ভবানীপুরে আর কোনো রকম তোলাবাজি, কাটমানি বা গুন্ডাভাতা চলবে না। দুর্নীতিগ্রস্তদের একমাত্র ঠিকানা হবে জেল। এই কেন্দ্র থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী করার জন্য ভবানীপুরের মানুষকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় এসে তিনি তাঁর পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামের আবহ ও অনুভব খুঁজে পাচ্ছেন।
দুর্নীতিমুক্ত ভবানীপুর ও আমজনতাকে সরাসরি যোগাযোগের আশ্বাস
তৃণমূল জমানায় ভবানীপুর এলাকায় কাটমানি ও তোলাবাজির যে বিস্তর অভিযোগ ছিল, এবার তার আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য তিনি একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর ও ইমেল আইডি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। কোনো রকম সমস্যায় পড়লে বাসিন্দাদের সরাসরি যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব। একটু সময় দিন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব।” এলাকার নাগরিকদের পরিষেবা আরও সহজ করতে আগামী দিনে ভবানীপুর জুড়ে বিধায়কের ৭টি কার্যালয় খোলার কথাও জানান তিনি, যেখানে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন।
মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ
এদিনের সভা থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি উল্লেখ করেন, মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে ৪টি বুথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ভোট দিয়েছেন, তার প্রতিটিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে। নিজের বুথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই পরাজয়কে হাতিয়ার করে শুভেন্দু বলেন, “যাঁকে নিজের বুথের মানুষই জেতাননি, তাঁকে বাংলার মানুষ দরজা দেখিয়ে দিয়েছে। ওঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার এখন পুরোপুরি শেষ।”
রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া অবস্থান রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের তোলাবাজি ও কাটমানি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে স্বচ্ছ প্রশাসন চালানোই যে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রথম সভা থেকেই সেই বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন। একই সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম ও একাধিক বিধায়ক কার্যালয় তৈরির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন এবং জনসংযোগ মজবুত করতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা নিতে পারে।
