ভারতের বদলে চিনকে বেছে নিলেন তারেক, তিস্তা ও যুদ্ধবিমান নিয়ে ঘনাচ্ছে উদ্বেগ! – এবেলা

ভারতের বদলে চিনকে বেছে নিলেন তারেক, তিস্তা ও যুদ্ধবিমান নিয়ে ঘনাচ্ছে উদ্বেগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথা ভেঙে প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে ভারতের বদলে মালয়েশিয়া ও চিনকে বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে চার দিনের চিন সফরে রয়েছেন তিনি। আগামী ২৬ জুন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে ঢাকা ও বেজিংয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত চিনের কাছ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই ঢাকার এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিস্তা প্রকল্প ও মংলা বন্দরে চিনা বিনিয়োগ

এই সফরে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে তিস্তা নদী প্রকল্প। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একেবারে গায়ে লাগোয়া মংলা বন্দরে ১১০ একর জমিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব নিয়েও চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে এই জমি ভারতকে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হলেও বর্তমান ঢাকা নেতৃত্ব তা বাতিল করে চিনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে ৩৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি চিনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিগুলি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ আরও প্রসারিত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বেজিংয়ের প্রভাব প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাবে।

যুদ্ধবিমান ক্রয় এবং দিল্লির কৌশলগত শঙ্কা

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে চিনের কাছ থেকে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ২৪টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ। আগামী অগাস্টের মধ্যেই এই সামরিক চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ এবং চিনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি তিস্তা এলাকায় চিনা আধিপত্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের অস্বস্তির মধ্যেই তারেক রহমানের এই বেজিং সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে ব্যাপক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *