ভারতের মাটিতেই চরম সংঘাত! ইরান-ইউএই দ্বন্দ্বে উত্তাল ব্রিকস সম্মেলন, আসরে নামতে হল রাশিয়াকে – এবেলা

ভারতের মাটিতেই চরম সংঘাত! ইরান-ইউএই দ্বন্দ্বে উত্তাল ব্রিকস সম্মেলন, আসরে নামতে হল রাশিয়াকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিনিধিরা একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে মধ্যস্থতা করতে হয়।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত বৈঠক

বৈঠক চলাকালীন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করেছে। ইরানের অভিযোগ, ইউএই তাদের আকাশসীমা, সামরিক ঘাঁটি এবং গোয়েন্দা তথ্য শত্রুপক্ষকে সরবরাহ করেছে। এর বিপরীতে ইউএই-এর প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, ইরান তাদের দেশের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। ইরান অবশ্য এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কেবল ইউএই-তে অবস্থিত ‘মার্কিন সামরিক ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছিল। এই তিক্ত বিতর্কের জেরে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ব্রিকস কোনো সর্বসম্মত যৌথ বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

৪০ দিনের যুদ্ধ ও ইসরায়েল যোগসূত্র

মূলত ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের মাধ্যমে যে ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার রেশ ধরেই এই বিবাদ। ইরানের দাবি, এই যুদ্ধে তাদের হাজার হাজার নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি, যুদ্ধের চরম মুহূর্তে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ইউএই প্রেসিডেন্টের গোপন বৈঠকের খবর ইরানকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। যদিও ইউএই এই বৈঠকের খবর সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে, তবে তেহরানের মতে আবুধাবি এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভারতের উদ্বেগ

সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ, বিশেষ করে ‘স্ট্রেট অফ হোরমুজ’-এ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা জরুরি। ইরান ও ইউএই-এর মধ্যকার এই বিরোধ কেবল ব্রিকস জোটের ঐক্যকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *