ভালোবেসে বিয়ে, পরিণতিতে চরম নৃশংসতা! অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে খুন করল স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর সংলগ্ন ভিঠিকলা হররা তিকরা গ্রামে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী অত্যন্ত অমানুষিক ও নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। নিহত ২৩ বছর বয়সী হীরাবাই তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তিনি চার সন্তানের জননী। অভিযুক্ত স্বামী প্রদীপ আগরিয়া তাঁর স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করে খুনের পর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে। সে স্ত্রীর মরদেহ মোটরসাইকেলে বেঁধে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নৃশংস রূপটি উন্মোচিত হয়েছে।
নৃশংসতার চরম সীমা
মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকরা স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত নারীর শরীরে মোট ১৮টি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করার ফলে তাঁর মাথার খুলি ভেঙে যায়। এছাড়া তাঁর গোপনাঙ্গে একটি ২৭ সেন্টিমিটার লম্বা লোহার রেতি (করাত ধার দেওয়ার যন্ত্র) ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং উরুতে ও তলপেটে প্রচণ্ড লাথি মারা হয়েছিল। এই পাশবিক অত্যাচারের কারণে হীরাবাইয়ের গর্ভে থাকা তিন মাসের শিশুটিও মারা যায়।
পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ববর্তী সহিংসতা
নিহত হীরাবাই লখনপুরের সকারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি মণিপুর এলাকার প্রদীপ আগরিয়ার সাথে প্রেম করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের দেড় বছর বয়সী যমজ সন্তানসহ মোট চারটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রদীপ প্রায়শই হীরাবাইয়ের ওপর নির্যাতন চালাত। এর আগেও সে কুড়াল দিয়ে আক্রমণ করে স্ত্রীকে গুরুতর আহত করেছিল এবং গ্রামবাসীদের কাছেও তার হিংস্র আচরণের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত সন্তানরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে আসেনি। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের জন্য জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুরে প্রদীপ আগরিয়া নামের এক ব্যক্তি তার ২৩ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হীরাবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
- ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিহতের শরীরে ১৮টি আঘাতের চিহ্ন, ভাঙা খুলি এবং গোপনাঙ্গে লোহার রেতি ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
- পাশবিক এই হামলার কারণে নিহত নারীর গর্ভে থাকা ৩ মাসের ভ্রূণটিও নষ্ট হয়ে গেছে।
- হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়, পুলিশ বর্তমানে তার সন্ধান করছে।
