ভোট বিপর্যয়ের পর তৃণমূলে তীব্র অসন্তোষ, চন্দ্রিমার নিয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিধায়ক অশোক দেব – এবেলা

ভোট বিপর্যয়ের পর তৃণমূলে তীব্র অসন্তোষ, চন্দ্রিমার নিয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিধায়ক অশোক দেব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। দলের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা হতেই প্রকাশ্যে এসেছে দলের অন্দরের তীব্র ক্ষোভ। এবার দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বজবজের বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব। দল প্রতিষ্ঠার সময় থেকে রাজ্য সভাপতির পদ সামলানো সুব্রত বক্সিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অব্যাহতি দিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এই পদে বসানোর পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

সোমবার বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুর চড়ান ‘দিদির’ দীর্ঘদিনের অনুগত হিসেবে পরিচিত এই নেতা। দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অশোক দেব জানান, নতুন সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে সাধারণ বিধায়কদের কিছুই জানানো হয়নি। তাঁর মতে, দলের এই কঠিন সময়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সভাপতি ঠিক করা উচিত ছিল। যে নেত্রী নিজে নির্বাচনে জিততে পারেননি, তিনি কীভাবে গোটা রাজ্য সংগঠন পরিচালনা করবেন এবং সব জেলার সভাপতিদের চিনবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রবীণ বিধায়ক। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বদলে মদন মিত্রের মতো রাস্তায় নেমে লড়াই করা নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাংগঠনিক সংকট ও ক্ষোভের কারণ

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বুধবার দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়ে সংগঠনের সমস্ত রাশ নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। এরপর গঠিত নতুন কমিটিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হলেও তাঁর সঙ্গে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল ও নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলের সাংগঠনিক পরিকাঠামোয় বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন দলে থেকেও কোনো মূল্যায়ন না পাওয়ায় অশোক দেবের মতো অনুগত নেতাদের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব

নির্বাচনে হারের পর জোড়াফুল শিবিরের সাংগঠনিক ভিত কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ‘মমতা তৃণমূল’ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সম্পূর্ণ আলাদা টিম গঠন করে কাজ শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে অশোক দেবের মতো প্রবীণ ও অনুগত নেতার এমন বিদ্রোহী মনোভাব দলের অন্দরে আরও বড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের রাজ্য সভাপতির পদ নিয়ে তৈরি হওয়া এই অসন্তোষ আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্বের ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *