ভোটার তালিকায় ভূতুড়ে কাণ্ড! বিধায়ক থেকে কাউন্সিলর বাদ পড়লেন সকলেই – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই যেন হাড়হিম করা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তালিকায় নাম নেই খোদ বিধায়কের, ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন কাউন্সিলরও। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বহু জীবিত ভোটারের নামের পাশে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘মৃত’। অথচ এই চরম অব্যবস্থা ও পাহাড়প্রমাণ ভুল নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের। বরং সিইও মনোজ আগরওয়াল এবং অতিরিক্ত সিইও অরিন্দম নন্দী সাংবাদিক বৈঠক করে দায় এড়াতে যে ধরণের অজুহাত দিয়েছেন, তাতে হতাশ ও আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
ভবানীপুর থেকে আমডাঙা সর্বত্রই ব্রাত্য জনপ্রতিনিধিরা
সবচেয়ে অবাক করার মতো ঘটনা ঘটেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রে অন্তত ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বহু জীবিত মানুষের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ সিলমোহর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার আমডাঙার তিনবারের তৃণমূল বিধায়ক রফিকর রহমানের নামও তালিকা থেকে উধাও। বাদ পড়েননি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং তাঁর মা সাদেকা বিবিও। এমনকি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার ও তাঁর মায়ের নামও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় গণহারে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। বনগাঁয় প্রায় ৪০ হাজার এবং নদীয়ায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অভিযোগ, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ৯০ শতাংশ মানুষের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। সিঙ্গুরের পরিস্থিতি আরও বিচিত্র। খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় গিয়ে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষের নাম গায়েব। বিএলও-রা পর্যন্ত এই ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন।
কমিশনের পরিসংখ্যান ও ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ভিড়
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ৬১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৯১ এবং মহিলা ভোটার ৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৩৭ জন। তবে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বিচারাধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তকমাটি। প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৩৭৫ জন ভোটারের নাম এখনও বিবেচনার আওতায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এদের ভোটাধিকার নিয়ে এখনও চরম অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। সব মিলিয়ে বাতিল করা হয়েছে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, ধাপে ধাপে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে এই ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু যে ভাবে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম বাদ পড়ছে, তাতে লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কমিশনের এই ‘হালকা চালের’ মানসিকতা ভোটারদের মনে ক্ষোভ আর আশঙ্কার সঞ্চার করছে।

