ভোটের জোয়ারে ভাসল বাংলা! হিংসা দূরে সরিয়ে ৯২.৯ শতাংশ ভোটদানে তৈরি হলো নয়া ইতিহাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটার তালিকায় বড় কাটছাঁটও দমাতে পারল না বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ইচ্ছাকে। বিশেষ পুনরীক্ষণ অভিযান বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার পরও প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ভোটের হার দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৯২.৯ শতাংশ। স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির। বিক্ষিপ্ত অশান্তি সত্ত্বেও বুথমুখী মানুষের এই ঢল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভোটার হ্রাসেও রেকর্ড ভোটদান
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অভিযানের ফলে মুর্শিদাবাদের সমসেরগঞ্জের মতো আসনগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। শুধুমাত্র সমসেরগঞ্জেই বাদ পড়েছিল ৯১,৭১২টি নাম। অথচ দেখা গেছে, সেই আসনেই ভোট পড়েছে রেকর্ড ৯৬.০৩ শতাংশ। একইভাবে লালগোলা, ভগবানগোলা ও ফারাক্কার মতো এলাকাগুলোতেও ভোটদানের হার ৯৫ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কই সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে বুথমুখী করেছে।
রাজনৈতিক তরজা ও প্রভাব
বিপুল এই জনজোয়ার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যবাণ। তৃণমূলের দাবি, এনআরসি ও ডিলিমিটেশনের আশঙ্কায় মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় রেকর্ড ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিপুল জনসমর্থনকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দাবি করে বলা হচ্ছে, মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসানের সময়কার ৮৪.৭২ শতাংশ ভোটের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ায় এই নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- স্বাধীনতার পর বাংলায় সর্বোচ্চ ৯২.৯ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
- এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়লেও সমসেরগঞ্জে সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
- ২০১১ সালের ঐতিহাসিক ৮৪.৭২ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে এই দফায়।
- পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল বেশি, যা প্রায় ৯২.৬৯ শতাংশ।
