ভোটের নামে জনমত লুট করেছে বিজেপি, গণনায় কারচুপির অভিযোগে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এই প্রথম মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে ভোট লুটের এক মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মদত নিয়ে এবং গণনা প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন কারচুপি করে রাজ্যের ১০০টিরও বেশি আসনের ফলাফল জোরপূর্বক বদলে দেওয়া হয়েছে। এই জয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায় নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অপব্যবহার করে ছিনিয়ে নেওয়া একটি জয়।
গণনা কেন্দ্রে কারচুপি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গণনা কেন্দ্রগুলি সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। অনেক জায়গায় তৃণমূলের এজেন্ট এবং প্রার্থীদের গণনা কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে বলে তিনি সরব হন। তাঁর দাবি, এই হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘নিষ্ক্রিয় দর্শক’ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে আঘাত করছে। তবে এই বিপর্যয়ে দমে না গিয়ে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার এই চরম অনিয়মের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস যে আইনি পথে হাঁটবে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক। দেশের সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই জারি থাকবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে এবং ক্ষমতার মসনদে বসেছে বিজেপি। এই বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে অভিষেকের এই ‘কারচুপির’ অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
