মুখবন্ধ খামে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সন্দেহভাজনদের তালিকা, অভয়াকাণ্ডে নয়া মোড়! – এবেলা

মুখবন্ধ খামে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সন্দেহভাজনদের তালিকা, অভয়াকাণ্ডে নয়া মোড়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আরজি করের ‘অভয়াকাণ্ড’ নিয়ে ফের তৎপরতা শুরু হলো রাজ্য প্রশাসনে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, অভয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে নতুন করে তদন্ত শুরু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে গতকাল নির্যাতিতার মা এবং বিজেপি বিধায়িকা রত্না দেবনাথ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা যৌথভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে একটি মুখবন্ধ খাম তুলে দিয়েছেন, যার ভেতরে রয়েছে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নামের তালিকা। এই তালিকা জমা পড়ার পরেই থমকে যাওয়া বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তালিকায় হেভিওয়েট চিকিৎসক ও প্রভাবশালীদের নাম

সূত্রের খবর, নির্যাতিতার মায়ের দেওয়া এই মুখবন্ধ খামে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের এর আগে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য কোনো সংস্থাই সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। এই তালিকায় আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী থেকে শুরু করে বিরূপাক্ষ বিশ্বাস, অভীক দে এবং সৌপ্তিক রায়ের মতো প্রভাবশালী চিকিৎসকদের নাম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নির্যাতিতার ভিন রাজ্যের এক সহপাঠী চিকিৎসক, কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক, কিছু ছাত্রনেতা এবং ঘটনার পর নেপালে চলে যাওয়া এক জুনিয়র চিকিৎসকের নাম। আন্দোলনকারী ও নির্যাতিতার পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, মূল অপরাধীদের আড়াল করতে এই ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়নি।

নতুন তদন্তের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো পূর্ববর্তী তদন্তের ওপর পরিবারের আস্থার অভাব এবং নতুন সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ বিচারের প্রতিশ্রুতি। সন্দেহভাজনদের এই নতুন তালিকা প্রকাশের ফলে থমকে থাকা তদন্তে বড় ধরনের মোড় আসতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তালিকায় নাম থাকা প্রভাবশালী চিকিৎসক এবং বহিরাগতদের জেরা করা হলে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা বড় কোনো ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন হতে পারে। পাশাপাশি, ভিন রাজ্যে বা বিদেশে চলে যাওয়া চিকিৎসকদের তদন্তের আওতায় আনা হলে ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সামনে আসবে। নতুন করে এই তদন্ত শুরু হলে তা যেমন স্বাস্থ্যক্ষেত্রের দুর্নীতিবাজদের ওপর চাপ বাড়াবে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *