চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে ৭০ লক্ষ টাকার সুপারি এবং ভিন রাজ্যের শার্প শুটার, তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য পেল সিবিআই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছে সিবিআই। ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পেরেছে, এই হাইপ্রোফাইল খুনটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভিন রাজ্যের শার্প শুটার এনে চন্দ্রনাথবাবুকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এই পুরো অপারেশনটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার সুপারি বা বরাত দেওয়া হয়েছিল বলে সিবিআই সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
নম্বর প্লেট বদলে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার ছক
তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিসান মাইক্রা গাড়িটি বারাসাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মায়াঙ্ক মিশ্র নামে এক যুবককে ১ লক্ষ টাকার বরাত দেওয়া হয়েছিল। ঝাড়খণ্ডের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি মায়াঙ্ককে এই কাজের দায়িত্ব দেয়, যার খোঁজে বর্তমানে তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআই। ধৃত মায়াঙ্ককে জেরা করে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, নিবেদিতা টোল প্লাজা পার হওয়ার কয়েক কিলোমিটার আগে গাড়িটি থামিয়ে সেটির আসল নম্বর প্লেট বদলে ফেলা হয় এবং সেখানে শিলিগুড়ির আরটিও-র অধীনে নথিভুক্ত একটি জাল নম্বর প্লেট লাগানো হয়। পুলিশের নজর এড়াতে আসল নম্বর প্লেটটি টোল প্লাজার আগেই ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং মায়াঙ্ক অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে টোল ট্যাক্স মিটিয়ে গাড়িটি বারাসাতের ১১ নম্বর গেটের কাছে রেখে চম্পট দেয়।
তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য মোটিভের সন্ধান
এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে সিবিআই ইতিমধ্যেই বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত মায়াঙ্ককে সঙ্গে নিয়ে সিবিআই প্রতিনিধি দল মধ্যমগ্রাম ও বারাসাতের বিভিন্ন এলাকায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ঝাড়খণ্ড থেকে আরও একটি গাড়ি তিনজনকে নিয়ে এই রাজ্যে এসেছিল। পুরো ঘটনার পিছনে ভিন রাজ্যের পেশাদার অপরাধী চক্র কাজ করলেও, এই সুপরিকল্পিত খুনের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিপুল অঙ্কের এই আর্থিক লেনদেন এবং সুপারি কিলিংয়ের নেপথ্যে কোনো বড়সড় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
