ভোরে রুদ্ধদ্বার নাটক, মদনের ফ্ল্যাটে ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশিতে মিলল গোপন নথি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার আরও জোরদার পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার সাত-সকালে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ফ্ল্যাটে একযোগে হানা দেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। জোকা এবং ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে প্রায় ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান শেষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গেছেন গোয়েন্দারা। এর আগে এই মামলার তদন্তে সিআইডি সক্রিয় হলেও, এবার ইডির এই ম্যারাথন অভিযান রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
কাকভোরে রুদ্ধদ্বার নাটক ও দেড় ঘণ্টার অপেক্ষা
শনিবার একেবারে কাকভোরে সেন্ট্রাল ফোর্সের জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে জোকা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন মদন মিত্রের ফ্ল্যাটে পৌঁছান ইডির ৫ থেকে ৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল। তবে সেখানে গিয়েই শুরুতে তীব্র বেগ পেতে হয় গোয়েন্দাদের। ফ্ল্যাটটি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি তাঁরা। চাবির খোঁজে এবং ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় তদন্তকারীদের বাইরেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তীতে দরজা খোলার পর ভেতরে শুরু হয় মূল তল্লাশি পর্ব। একই সময়ে বিধায়কের ভবানীপুরের ফ্ল্যাটেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় এজেন্সির আরেকটি দল।
তল্লাশির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার সীতারাম পাহাড়ি জানান, আধিকারিকরা এসে নিজেদের ইডি পরিচয় দিয়ে মূলত বিধায়কের খোঁজ করছিলেন। দিনভর তল্লাশি চালিয়ে ঘর থেকে বেশ কিছু জরুরি কাগজপত্র ও নথি সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন তাঁরা। মূলত পুর নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের যোগসূত্র খুঁজতেই এই ম্যারাথন অভিযান চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে আগামী দিনে এই মামলার তদন্তে আরও বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
