মঞ্চে আবেগঘন মুহূর্ত! প্রবীণ কর্মীর পা ছুঁয়ে প্রণাম মোদীর, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার – এবেলা

মঞ্চে আবেগঘন মুহূর্ত! প্রবীণ কর্মীর পা ছুঁয়ে প্রণাম মোদীর, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক বিরল ও মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল উপস্থিত জনতা। বঙ্গ রাজনীতিতে দীর্ঘ লড়াইয়ের কাণ্ডারি তথা ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণতম কর্মী মাখনলাল সরকারের পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জড়িয়ে ধরেন। প্রবীণ এই কর্মীর প্রতি দেশের শীর্ষ নেতার এই বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন উপস্থিত সকলের নজর কেড়েছে।

ত্যাগের স্বীকৃতি ও পরিবারের আবেগ

প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক আচরণে মাখনলাল সরকারের পরিবার রীতিমতো আবেগাপ্লুত। তাঁর পুত্রবধূ মিনু সরকার জানান, এটি তাঁদের পরিবারের কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দশকের পর দশক ধরে তাঁর শ্বশুরমশাই দলের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মান তারই যোগ্য স্বীকৃতি। মিনু সরকারের কথায়, “বাবার দীর্ঘ লড়াই এবং পরিশ্রম আজ সার্থকতা পেল। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তাঁকে সম্মান জানালেন, তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সাধারণ স্তরের কর্মীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাখনলাল সরকার: জনসংঘ থেকে বিজেপির যাত্রাপথ

মাখনলাল সরকার কেবল একজন কর্মী নন, বরং ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক জীবন্ত ইতিহাস। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে তেরঙা পতাকা ওড়ানোর আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গী হয়ে তিনি কারাবরণ করেছিলেন। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় সংগঠন প্রসারে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে ১০ হাজার মানুষকে দলের অন্তর্ভুক্ত করা এবং টানা সাত বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানো তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেয়। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রণাম মূলত সেই লড়াই এবং নিষ্ঠার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *