মমতার ৫ সিদ্ধান্তে কোপ? মোদী গ্যারান্টি পূরণে কি ২৪ ঘণ্টাতেই শুভেন্দুর ‘বুলডোজার’ নীতি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার সংকল্প নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের বেশ কিছু জনমুখী প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে আমূল বদলে ফেলা। নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা ‘মোদী গ্যারান্টি’ বাস্তবায়নে নতুন সরকারকে এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড়সড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলছে।
জনকল্যাণ ও প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন রূপরেখা
বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা সংকল্প পত্র অনুযায়ী, প্রথম বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে স্বাস্থ্য খাতে। তৃণমূল সরকারের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের পরিবর্তে রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্যকর করা শুভেন্দু সরকারের অগ্রাধিকার। এর ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ দেশের যেকোনো প্রান্তের হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (DA) এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি কর্মীদের আস্থা অর্জনে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত
নতুন সরকারের নীতিতে অনুপ্রবেশ এবং জাতীয় সুরক্ষা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করার যে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতি অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া, রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ বদলে দিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) কার্যকর করার পথে হাঁটতে পারে নতুন প্রশাসন।
নারীদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও আসছে বড় বদল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পালটা হিসেবে বিজেপি মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ নামে পরিচিত হতে পারে। তবে রাজ্যের বর্তমান ঋণের বোঝা মাথায় রেখে এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা শুভেন্দু অধিকারীর জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। মূলত কেন্দ্রের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সহায়তায় এই উন্নয়নমূলক এবং নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত কার্যকর করে জনমানসে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া পদ্ম শিবির।
