মথুরার মন্দিরে কলঙ্ক: ১০ বছরের শিশুকে লালসার শিকার করল ৬২ বছরের সাধু, গণধোলাই দিয়ে জুতোপেটা গ্রামবাসীদের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের মথুরায় এক মন্দিরের পবিত্রতা কলঙ্কিত করে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৬২ বছর বয়সী এক সাধুর বিরুদ্ধে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত সাধুকে ধরে গণধোলাই দেওয়ার পর জুতো-চটি পরিয়ে গ্রামে ঘোরান। বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নির্মমতা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা শিশুটি তার পরিবারের সঙ্গে ওই মন্দির চত্বরেই বসবাস করত। ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা ব্যক্তিগত কাজে মন্দিরের বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত সাধু লক্ষ্মীকান্ত ওই শিশুকে একা পেয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে আশেপাশের গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। গত তিন বছর ধরে এই মন্দিরে বসবাসকারী লক্ষ্মীকান্ত আদতে উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলার বাসিন্দা। ধর্মীয় বেশভূষার আড়ালে দীর্ঘ সময় ধরে সে স্থানীয়দের বিশ্বাস অর্জন করে নিয়েছিল।
জনরোষ ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার নৃশংসতা দেখে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেন। অভিযুক্তকে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি তার গলায় জুতো-চটির মালা পরিয়ে পুরো গ্রাম ঘোরানো হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনা ধর্মীয় স্থানগুলোতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে পরিচিত বা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিদের দ্বারা এ ধরনের অপরাধ সমাজকে নতুন করে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
