১৮ হাজার থেকে একলাফে ৬৯ হাজার! অষ্টম বেতন কমিশনের নয়া ফর্মুলায় ঘুম উড়ল সরকারি কর্মীদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বেতন কাঠামো পরিবর্তনের যে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, তাতে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ বৃদ্ধির যে প্রস্তাবনা সামনে এসেছে, তা কার্যকর হলে সরকারি কর্মীদের নূন্যতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে এক লাফে প্রায় ৬৯ হাজার টাকায় পৌঁছে যেতে পারে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও বেতন বৃদ্ধির সমীকরণ
বেতন কাঠামোর মূল চাবিকাঠি হলো ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, যা নির্ধারণ করে একজন কর্মীর নতুন মূল বেতন (Basic Pay) কত হবে। সপ্তম বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। তবে বর্তমানে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে কর্মচারী সংগঠনগুলো অষ্টম বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৮৩ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। এই গাণিতিক ফর্মুলা অনুযায়ী বেতন নির্ধারিত হলে নিচু স্তর থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—সবার বেতনই আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব
যদি সরকার ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি মেনে নেয়, তবে লেভেল-১ পর্যায়ের কর্মীদের নূন্যতম বেতন ৬৯ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাবে। একইভাবে কনস্টেবল বা জুনিয়র ক্লার্কদের বেতন বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের বেতন দেড় থেকে পৌনে দুই লক্ষ টাকা এবং শীর্ষ আমলা বা আইএএস কর্মকর্তাদের বেতন সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বেতন বৃদ্ধির সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পেনশনভোগীদের ওপরও, কারণ তাদের পেনশনের অঙ্কও মূল বেতনের অনুপাতে বহুগুণ বেড়ে যাবে।
তবে এই বিশাল বেতন বৃদ্ধি সরকারের রাজকোষে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করবে। ফলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং কর্মচারীদের দাবি পূরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই এখন কেন্দ্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও, এই নয়া ফর্মুলা সরকারি মহলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
