মধ্যমগ্রাম ও শোভাবাজারের পর এবার আমতা, ট্রলি ব্যাগে প্রৌঢ়ের দেহ উদ্ধারে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যমগ্রাম এবং শোভাবাজারের হাড়হিম করা ট্রলি ব্যাগ কাণ্ডের স্মৃতি এখনও টাটকা রাজ্যবাসীর মনে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল হাওড়ার আমতায়। রবিবার সকালে আমতার উলুবেড়িয়া গরুহাটা মোড়ের কাছে ওটি রোডের ধারের একটি ঝোপ থেকে এক প্রৌঢ়ের হাত-পা মোড়ানো মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঝোপের মধ্যে একটি বড় কালো ট্রলি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় উলুবেড়িয়া থানায়। পুলিশ এসে ব্যাগটি খুলতেই প্রৌঢ়ের দেহটি প্রকাশ্যে আসে। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রহস্যের আবর্তে মৃত্যুর কারণ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী ওই প্রৌঢ়ের শরীরে আপাতদৃষ্টিতে কোনও আঘাত বা ক্ষতের চিহ্ন মেলেনি। তবে তাঁর শারীরিক গঠন অত্যন্ত শীর্ণকায়, ওজন বড়জোর ৩৫ কেজির কাছাকাছি। মাঝারি উচ্চতার ওই ব্যক্তির পরনে ছিল প্যান্ট ও শার্ট। পুলিশের অনুমান, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে কেউ বা কারা মৃতদেহ ভর্তি ব্যাগটি ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি অসুস্থতাজনিত স্বাভাবিক মৃত্যু, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতিধ্যেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। প্রৌঢ়ের পরিচয় জানার পাশাপাশি তিনি কোথা থেকে এবং কীভাবে ওই এলাকায় এলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একের পর এক ট্রলি ব্যাগ কাণ্ডের জেরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
