মমতাকে ‘শেয়ারিং’-এর প্রস্তাব দিয়ে ফের বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেন হুমায়ুন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চরম সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দল ছেড়েছেন একাধিক হেভিওয়েট বিধায়ক ও সাংসদ। এই পরিস্থিতিতে একদা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তৃণমূলনেত্রীকে যৌথভাবে কাজ করার বা ‘শেয়ারিং’-এর আহ্বান জানিয়ে রাজনীতিতে তাঁর পুনর্বাসনের পক্ষে সওয়াল করেছেন রেজিনগরের এই রাজনীতিক।
দলবদল ও তৃণমূলের বর্তমান সংকট
গত বছর দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নিজস্ব দল গঠন করে তৃণমূল সরকার উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন। তবে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। দলের সিংহভাগ বিধায়ক ও সাংসদ দলনেত্রীর হাত ছেড়েছেন। এমনকি দলের একটি বড় অংশের সাংসদ এনডিএ-র শরিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে একসময়ের শাসক দল। এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একা না রেখে তাঁর পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন তাঁকে সাথে নিয়ে চলেন এবং পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আসন ছাড়ার বার্তা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন এবং তিনি নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ালে জয়ী হতে পারবেন না। সেই কারণে নেত্রীকে পুনরায় বিধানসভায় পাঠাতে নিজের নিশ্চিত রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুনের এই বার্তার পেছনে একদিকে যেমন মমতার প্রতি তাঁর পুরনো রাজনৈতিক টান প্রকাশ পাচ্ছে, অন্যদিকে রেজিনগর এলাকায় নিজের একচ্ছত্র প্রভাব প্রমাণ করে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টাও কাজ করছে। ক্ষমতাচ্যুত ও একা হয়ে পড়া তৃণমূলনেত্রীর কাছে এই প্রস্তাব নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
