মহাযুদ্ধ নদীয়ায়! নিজের দলেরই ২৭ সদস্যের অনাস্থা, চেয়ার খোয়াচ্ছেন তৃণমূলের জেলা সভাধিপতি? – এবেলা

মহাযুদ্ধ নদীয়ায়! নিজের দলেরই ২৭ সদস্যের অনাস্থা, চেয়ার খোয়াচ্ছেন তৃণমূলের জেলা সভাধিপতি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কৃষ্ণনগর: বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এলো তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এবার তীব্র ডামাডোল তৈরি হলো নদিয়া জেলা পরিষদে। দলের অন্দরের তীব্র বিরোধের জেরে এবার কি চেয়ার খোয়াতে হচ্ছে নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরকে? সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে প্রেসিডেন্সী ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে চিঠি জমা দিলেন জেলা পরিষদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা, যা ঘিরে নদিয়া জেলা রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

৫২ আসন বিশিষ্ট নদিয়া জেলা পরিষদের বোর্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ৪৬ এবং বিজেপির রয়েছে ৬ জন সদস্য। রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকে তৃণমূল এখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও দলের ভেতরের ফাটল এবার স্পষ্ট। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৬ জন সদস্যের মধ্যে ২৭ জন সদস্য সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ৪ জন প্রভাবশালী কর্মাধ্যক্ষও রয়েছেন। অনাস্থা প্রস্তাবের এই চিঠিটি প্রথমে প্রেসিডেন্সী ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার এবং পরে নদিয়ার জেলাশাসকের দপ্তরেও জমা দেওয়া হয়।

জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তুহি ঘোষ চৌধুরীর নেতৃত্বেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এই চরম পদক্ষেপ? জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, সভাধিপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন দীর্ঘদিনের। এর আগেও একবার ৩১ জন সদস্য একজোট হয়ে সভাধিপতিকে সরানোর জন্য সই করেছিলেন, তবে সেবার দলের হস্তক্ষেপে জল বেশি দূর গড়ায়নি। কিন্তু ৪ মে রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ, সম্প্রতি জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর নিজের কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ডাকেন। কিন্তু সেই মিটিংয়ে মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তুহি ঘোষ চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে তুহি দেবী নিজেই সভাধিপতির কক্ষে গেলে তাঁকে নাকি ঘর থেকে চলে যেতে বলা হয়।

এই প্রসঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তুহি ঘোষ চৌধুরী বলেন, “আমাকে সিকিউরিটি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা হয়। উনি এমন চরম দুর্ব্যবহার করেছেন আমাদের সাথে। আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা পরে জানবেন। এর আগেও ৩১ জন অনাস্থার সই করেছিল, দল বোঝানোর চেষ্টা করলেও উনি দলের কথা শোনেননি।” এই ঘটনার পরেই জিলা পরিষদের অন্দরে তারান্নুম সুলতানাকে সরানোর ছক চূড়ান্ত রূপ নেয়।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, গত শুক্রবারের মধ্যেই সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থার সই সংগ্রহের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। দলের এই বড়সড় ভাঙন ও ডামাডোল আটকাতে কৃষ্ণনগরের সাংসদ তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র নিজে উদ্যোগী হয়েছিলেন এবং ক্ষুব্ধ সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সভাধিপতির বিরুদ্ধে সদস্যদের ক্ষোভের মাত্রা এতটাই প্রবল ছিল যে, সাংসদের মধ্যস্থতার চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ফলে সোমবার সহকারি সভাধিপতি ও ৩ কর্মাধ্যক্ষ সহ ২৭ জন সদস্য অনাস্থা চিঠি জমা দিয়ে আসেন।

এই হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক নাটক নিয়ে নদীয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লি বলেন, “অনাস্থার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনও খতিয়ে দেখা হয়নি, নথিপত্র দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।” অন্যদিকে, যাঁর চেয়ার নিয়ে এত বড় টানাটানি, সেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর অবশ্য এখনই মুখ খুলতে নারাজ। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “আমি এই বিষয়ে এখন কিছু বলব না। যা বলার পরে বলব।” তবে সভাধিপতি মুখে কুলুপ আঁটলেও, নদীয়া জেলা পরিষদের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আগামী দিনগুলিতে জেলার রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *