মহিলাদের বিধায়ক কার্যালয়ে ডেকে কী করতেন খোকন? ফাঁস হতেই গ্রেপ্তার ‘বর্ধমানের শাহজাহান’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সন্দেশখালির স্মৃতি উসকে এবার নারী নির্যাতন ও দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ উঠল বর্ধমানের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এই প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে বর্ধমানের বেলপুকুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত রবিবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর মঙ্গলবার আদালত ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার ধৃত খোকনকে সঙ্গে নিয়ে বেলপুকুর এলাকার বিধায়ক কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান চললে স্থানীয় মহিলারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
বিলাসবহুল কার্যালয়ে অপকর্মের অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, বেলপুকুরের ওই তৃণমূল কার্যালয় তথা বিধায়ক সহায়তা কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। বাইরে থেকে দলীয় কার্যালয় মনে হলেও এর ভেতরে ছিল অভিজাত হোটেলের মতো এলাহী আয়োজন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বিছানা, বালিশসহ সমস্ত বিলাসবহুল ব্যবস্থা মজুত ছিল। স্থানীয় মহিলাদের দাবি, সন্দেশখালির কায়দায় ‘পিঠে বানানোর’ নাম করে এলাকার নারীদের এই কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হতো এবং সেখানে প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতিতে চলত চরম অধঃপতন ও নারী নির্যাতন। প্রতিবাদ করায় বহু মহিলাকে খোকন বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে এবং সম্ভ্রম বাঁচাতে অনেকেই আগে দল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সরকারি ত্রাণ চুরি ও বিপুল সম্পত্তির উৎস
শুধু নারী নির্যাতনই নয়, খোকন দাসের বিরুদ্ধে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশি তল্লাশিতে খোকনের বাড়ি থেকে ট্রাকভর্তি সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এবং একাধিক গোপন নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের টোটো জোর করে কেড়ে নিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও মিলেছে। একসময় ঠেলাগাড়িতে গুল বিক্রি করা খোকন দাস কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডির হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং খোকন দাসের এই সাম্রাজ্য পতনের ফলে স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
